আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০

ভারতে ২৪ ঘণ্টায় বজ্রপাতে ১১৬ জন নিহত

ভারতে ২৪ ঘণ্টায় বজ্রপাতে ১১৬ জন নিহত



ভয়াবহ বজ্রপাতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ভারতে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ১১৬ জন। ভারতের দুই রাজ্যে বজ্রপাতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এই বজ্রাঘাতে বিহারে ৯২ জন ও উত্তরপ্রদেশে ২৪ জন নিহত হয়েছে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে দিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য এই দুই রাজ্যের মানুষজনকে ঘরে থাকতে আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বিহার সরকার জানিয়েছে, সেখানে বজ্রাঘাতে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে শুক্রবার (২৬ জুন) সেই সংখ্যা সংশোধন করে বিহার সরকার। শুক্রবার পাটনার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, বজ্রাঘাতে বিহারের বিভিন্ন জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২ জন হয়েছে।


বিহারের অন্তত ২৩টি জেলায় বজ্রাঘাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা গোপালগঞ্জে। সেখানে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় আটজনের মৃত্যু হয়েছে মাধুবনি জেলায়। এছাড়া সিওয়ান, ভাগলপুল, পূর্ব চাম্পারান, দরভাঙা, ভাগলপুর ও বাঙ্কায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে উত্তরপ্রদেশে বৃহস্পতিবারের বজ্রাঘাতে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। লখনৌয় সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। তারা জানিয়েছে, রাজ্যের দেওরিয়ায় ৯ জন, প্রয়াগরাজে ছয়জন, আম্বেদকারনগরে তিনজন ও বড়ববাঙ্কিতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
ভারতীয়রা টয়লেটে যায় না কেন?

ভারতীয়রা টয়লেটে যায় না কেন?



ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজ্য মহারাষ্ট্র সরকার ঘোষণা দিয়েছিলো যে সেই রাজ্যে কাউকে আর খোলা আকাশের নিচে মল-মূত্র ত্যাগ করতে দেয়া হবে না। কারণ গোটা রাজ্যে সবার হাতের নাগালে বানানো হয়েছে শৌচাগার। 

গত কয়েক বছরে ভারতে অনেক রাজ্যই নিজেদের 'ওপেন ডিফেকেশেন ফ্রি' বা ওডিএফ বলে ঘোষণা করেছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বহু জায়গাতেই শৌচাগারে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভারতীয়রা এখনও উন্মুক্ত জায়গায় মল-মূত্র ত্যাগ করতেই বেশি পছন্দ করে।

কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি? কেন শৌচাগার বানানোর পরও মানুষ সেখানে যেতে চাইছেন না?

ভারতে নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর যে 'স্বচ্ছ ভারত অভিযান' শুরু হয়েছিল, তার আওতায় দেশ জুড়ে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক কোটি শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও ভারতীয়দের উন্মুক্ত জায়গায় শৌচ করার অভ্যাস পাল্টানো যায়নি।


কেন তারা শৌচাগারে যাচ্ছেন না, এ প্রশ্নের জবাবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিকে অনেকেই বলেছেন, দেওয়ালে ঘেরা বদ্ধ জায়গায় শৌচ করতে তাদের ভাল লাগে না। গরম লাগে, গ্যাসে-দুর্গন্ধে নাকি বমি-বমি পায়। গ্রামীণ মহিলাদের অনেকের আবার বলেছেন পানির অভাবের কথা।

আরো পড়ুন: ভারতে ২৪ ঘণ্টায় বজ্রপাতে ১১৬ জন নিহত

উত্তরপ্রদেশের এক নারী জানিয়েছিলেন, চাষের ক্ষেতে গেলে এক লোটা পানিতেই কাজ সারা যায়। কিন্তু শৌচাগারে গেলে লাগে পুরো এক বালতি পানি। এলাকায় পানির সমস্যা এতোই বেশি যে শৌচের জন্য এত পানি খরচ করা যায় না। কাজেই ভোরবেলায় কেউ ওঠার আগে আমি নিজের মায়ের সঙ্গে গিয়ে ক্ষেতেই কাজ সেরে আসি।


গ্রামীণ স্যানিটেশন নিয়ে কাজ করেছেন সুস্নাত চৌধুরী। বিবিসিকে তিনি জানিয়েছিলেন, একটা টয়লেট বানানোর পর তার প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ অনেক সময়ই থাকে না আর সেটাই মানুষকে টয়লেট থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গ্রামে গ্রামে ভোররাতে এখন স্বেচ্ছাসেবীরা টহল দিচ্ছেন যাতে খোলা জায়গায় কেউ মল ত্যাগ করতে না পারেন। শৌচাগার থাকা সত্ত্বেও যারা ক্ষেতে যাচ্ছেন তাদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। চেষ্টা করা হচ্ছে কিছুটা লজ্জায় ফেলারও।

বিহারে একজন স্বেচ্ছাসেবী জানিয়েছেন, আমরা যখন তাদের বলি তোমার বউ-মেয়ে লোটা নিয়ে সকালে ক্ষেতে যাচ্ছ, তখন তার শরীরের এমন সব অংশ গোটা গ্রাম দেখতে পায়, যা স্বামী ছাড়া কারুর দেখার কথা নয়। তখন তোমাদের লজ্জা-শরম কোথায় যায়?"

শৌচাগার আন্দোলনে সঙ্গে যুক্ত ভারতের বৃহত্তম এনজিও সুলভ ইন্টারন্যাশনাল অবশ্য মনে করে, ভারতের আবহমান সংস্কৃতি যেহেতু বলে শৌচের কাজ বসতবাড়ি থেকে দূরে হওয়া উচিত - তাই বাড়ির ভেতরে বা লাগোয়া শৌচাগার ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি হতে আরও সময় লাগবে।

সূত্র: বিবিসি 

সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ লাখ ছাড়াল, মৃত্যু ৪ লাখ ৭০ হাজার

বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ লাখ ছাড়াল, মৃত্যু ৪ লাখ ৭০ হাজার



বিশ্বব্যাপী নোভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ লাখ ৫০ হাজার ৬৮৬ জন। আর এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৭৯২ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ৯২৫ জন। সোমবার (২২ জুন) সকাল পর্যন্ত করোনার সার্বক্ষণিক পরিসংখ্যান প্রদানকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের সবশেষ হিসাবে এই তথ্য জানা গেছে।

আক্রান্ত ও মৃত্যু উভয় সংখ্যার দিক থেকেই বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৫৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ২৪৭ জনের।

আক্রান্ত ও মৃতের হিসাবে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে ব্রাজিল। দেশটিতে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৫০ হাজার ৬৫৯ জনের। আর আক্রান্ত হয়েছে ১০ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯০ জন।

আক্রান্ত বিবেচনায় তৃতীয় ও চতুর্থস্থানে রয়েছে যথাক্রমে রাশিয়া ও ভারত। এখন পর্যন্ত রাশিয়াতে মোট আক্রান্ত ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ জন। আর ভারতে মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৬১০ জন।    


মৃতের হিসেবে তৃতীয় স্থানে এবং আক্রান্ত বিবেচনায় বিশ্বে ৫ম ও ইউরোপের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪২ হাজার ৬৩২ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৪ হাজার ৩৩১ জন।

এছাড়া ইতালিতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৬৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আর মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৯ জন।

রবিবার, ২১ জুন, ২০২০

করোনার নতুন নামকরণ করলেন ট্রাম্প!

করোনার নতুন নামকরণ করলেন ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত


করোনাভাইরাস নিয়ে আবারও চীনকে দোষারোপ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের নতুন নামকরণ করলেন ‘কুং ফ্লু’। খবর এনডিটিভির।
খবরে বলা হয়, করোনা ও লকডাউন পরবর্তী প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে ওকলাহোমার তুলসায় গিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানেই তিনি করোনাভাইরাস নিয়ে কথা বলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইতিহাসে অন্য যে কোনো রোগের চেয়ে বেশি নাম রয়েছে কোভিড-১৯ রোগের।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এর নাম দিতে পারি- কুং ফ্লু। আমি আরও ১৯টি ভিন্ন সংস্করণের নাম দিতে পারি। অনেকে এটাকে একটা ভাইরাস বলে। অনেকে বলে ফ্লু। পার্থক্য কী। আমি মনে করি আমাদের কাছে এটির নামের ১৯ কিংবা ২০টি সংস্করণ আছে।’
করোনা চীনে উৎপত্তি হওয়ায় দেশটির মার্শাল আর্টের সংস্করণ কুং ফুর সঙ্গে মিল রেখে ট্রাম্প এই নতুন নাম দিলেন। একই বক্তব্যে কোভিড-১৯ কে ‘চীনা ভাইরাস’ বলেছেন তিনি।
জোন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, এ পর্যন্ত করোনায় ৮৯ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ২২ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজারের বেশি মানুষের।
ভারত সীমান্তে সেনা ক্যাম্প ও সামরিক হেলিপ্যাড নির্মাণ করছে নেপাল

ভারত সীমান্তে সেনা ক্যাম্প ও সামরিক হেলিপ্যাড নির্মাণ করছে নেপাল




লাদাখের গালওয়ানে চীন ও ভারতের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এবার ভারত সীমান্তে হেলিপ্যাড ও সামরিক ক্যাম্প স্থাপন করছে নেপাল সেনাবাহিনী। খবর সাউথএশিয়ান মনিটর’র।
এরআগে, নেপালের সরকার ভারতের সাথে বিতর্কিত ভূখণ্ড লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখকে নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানায় বিবিসি ।
এছাড়া, দু’দেশের সীমানা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত ১২ জুন বিহার সীমান্তে নেপাল পুলিশের গুলিতে এক ভারতীয় নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হয়। এ ছাড়া একজন ভারতীয়কে আটক করে নেপালের সীমানা চৌকিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপরই, গত ১৪ জুন ভারতের উত্তরাখণ্ডের লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখকে নিজেদের দাবি করে এক নতুন মানচিত্র দেশটির সংসদে পাশ করেছে নেপাল সরকার। এ নিয়ে ভারত ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে।
ক্ষোভে ফুঁসছে বাংলাদেশ

ক্ষোভে ফুঁসছে বাংলাদেশ



চীন ও ভারতের মধ্যে সংঘাতের জেরে বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে খবর প্রকাশ করেছে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম। বাংলাদেশের পণ্যে চীন সরকারের দেয়া শুল্ক সুবিধাকে তারা ‘খয়রাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। শনিবার (২০ জুন) ওই খবর প্রকাশের পর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছে বাংলাদেশের সামাজিকমাধ্যম।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা প্রথমে বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে খবর প্রকাশ করে। পরে জি নিউজ তাদের সংবাদের শিরোনামেই ‘খয়রাতি’ শব্দ ব্যবহার করে। ভারতীয় মিডিয়ার এমন গাত্রদাহ নিয়ে বাংলাদেশের একাধিক মিডিয়া খবর প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশের মিডিয়ায় এভাবে কটাক্ষ করায় বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ রয়েছে।

ভারতীয় মিডিয়ার এমন মন্তব্যের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী আনিস সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘এই আনন্দবাজার আমি পড়ি না। সিরিয়াসলি। অনেক বিজ্ঞ আর শিক্ষকদের কথায় কথায় সুসাংবাদিকতার জন্য পত্রিকাটির উদাহরণ টানতে দেখি। আমি সেই বিজ্ঞদের মতো হতে পারিনি। আমি দেখি “সাংবাদিকতা” হয়েছে কিনা। সেটা অজপাড়ার কোনও অঞ্চলের গণমাধ্যম হলেও। জনপ্রিয়তাই সবকিছু নয়... ছন্দে বন্দে মন্দে দ্বন্দ্বে লেখাই সাংবাদিকতার মাপকাঠি নয়।’


ঢাকার প্রখ্যাত সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আনন্দবাজার পত্রিকার ধৃষ্টতা… পত্রিকাটির ২০ জুনের অনলাইন সংস্করণে “লাদাখের পর ঢাকাকে পাশে টানছে বেইজিং” শিরোনামের খবরের প্রথম লাইন: “বাণিজ্যিক লগ্নি আর খয়রাতির টাকা ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা নতুন নয় চীনের”।

‘১. বাংলাদেশের জন্য আনন্দবাজারের অপমানকর এই বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ২. ঢাকা থেকে যে নিজস্ব সংবাদদাতা এই খবর এ ভাষায় পাঠিয়েছেন তার সম্পর্কেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

‘বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক। আনন্দবাজার পত্রিকার এই আচরণ বিপরীতমুখী। গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারিভাবেই এর প্রতিবাদ জানানো উচিত।’


ঢাকার আরেক প্রভাবশালী সাংবাদিক গাজী টেলিভিশন (জিটিভি), সারাবাংলা.নেট ও দৈনিক সারাবাংলার (প্রকাশিতব্য) এডিটর-ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, ‘কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিকতাকে খোদ কলকাতাতেই “বাজারি সাংবাদিকতা” বলা হয়। এবার কি তারা শুরু করলো খয়রাতি সাংবাদিকতা? চীন নাকি খয়রাতি সাহায্য ছড়াচ্ছে বাংলাদেশের জন্য!!! সাংবাদিকতার সামান্য নীতি-নৈতিকতা মানলে একটা রিপোর্টে এমন মন্তব্য আসতে পারে না। রিপোর্টটি আবার গেছে ঢাকা থেকে, যিনি নিশ্চয়ই বাংলাদেশের নাগরিক!

‘ভারত-বাংলাদেশ চমৎকার সম্পর্ক। এটি দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে। দুটি দেশের এমন সুন্দর সম্পর্কের মাঝে এটি কী ধরনের সাংবাদিকতা? চীন তার নিজস্ব অর্থনৈতিক বিবেচনায় কিছু পণ্যে শুল্ক সুবিধা দিয়েছে, সেটা খয়রাতি সাহায্য হয় কী করে?

‘কিছু লোকের আবার চুলকানি শুরু হবে ভারত নিয়ে। এখানে ভারতের দোষ কোথায়? এটা একটা পত্রিকার ভাষ্য। ভারত অবশ্যই বাংলাদেশের আন্তরিক বন্ধু, সেটা ’৭১ সালেই প্রমাণিত। এখনও সেই বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত।’

উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী শাহানা হুদা আনন্দবাজার পত্রিকার সংবাদের প্রতিবাদ জানানোর দাবি করে লিখেছেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ সরকার আনন্দবাজার পত্রিকার এই জঘন্য প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাক।’

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২০

সীমান্তে শত শত অস্ত্রসজ্জিত গাড়ি মোতায়েন করেছে চীন

সীমান্তে শত শত অস্ত্রসজ্জিত গাড়ি মোতায়েন করেছে চীন

উত্তেজনা কমেনি ভারত-চীন সীমান্তে। লাদাখ সীমান্তে এবার শত শত সামরিক গাড়ি মোতায়েন করেছে চীন। সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আগেই গোলাবারুদ ও সেনাবোঝাই এসব গাড়ি লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল সীমানার কাছে গালওয়ান নদী উপত্যকায় আনা হয়। স্যাটেলাইট চিত্রে সশস্ত্র সামরিক গাড়ি মোতায়েনের এসব দৃশ্য উঠে এসেছে।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে এ গালওয়ান ভেলিতেই দু’পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ভারতের ২৩ জওয়ান নিহত হন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর মতে, চীনা সেনাবাহিনীরও অন্তত ৪৫ জন নিহত হন। 

চীন দাবি করেছে, ভারতীয় সেনারা প্রথমে এলএসি সীমানা লঙ্ঘন করেছিল। কিন্তু ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষ নিয়ে মিথ্যা বলছে বেইজিং। প্রমাণ হিসেবে স্যাটেলাইটের ইমেজকে উপস্থাপন করছেন তারা।

সংঘর্ষের আগে ও পরে পুরো উপত্যকার সব ছবিই প্লানেট ল্যাবের স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার সংঘর্ষস্থলের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করা হয়। ধারণ করা ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ভারতের গালওয়ান নদী উপত্যকা বরাবর সারি সারি মোতায়েন করা চীনা সেনাবাহিনীর (পিএলএ) বেশ কয়েকটি সামরিক ট্রাক।


ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের আগে অন্তত ২শ সশস্ত্র গাড়ি মোতায়েন করা হয়। এছাড়া বেশ কয়েকটি সেনা তাঁবুও টানানো হয়। সংঘর্ষের পরও উপত্যকা থেকে এগুলো সরানো হয়নি।

গালওয়ান নদী বা গালওয়ান নদী উপত্যকা চীনের সীমানা রেখার পশ্চিমে ও আকসাই চীনের ভারতীয় অংশে অবস্থিত। ১৯৬০ সালে এ উপত্যকার পশ্চিম সীমা শায়ক নদী উপত্যকা সংলগ্ন পার্বত অঞ্চল পর্যন্ত দাবি করেছিল চীন। ফলে ১৯৬২ সালে দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা। এর কয়েকমাস পরেই ভারত ও চীনের যুদ্ধ বেধে যায়।

আকসাই চিন এলাকা থেকে লাদাখ ঘিরে বয়ে চলা প্রাচীন গালওয়ান নদী ভারত ও চীনের চলমান সংঘাতের প্রধান কারণ। বর্তমানে ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে এ উপত্যকাটি দুই দেশের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চীন-ভারত সংঘাতে বাংলাদেশের অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চীন-ভারত সংঘাতে বাংলাদেশের অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চীন ও ভারতের মধ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, ভারত ও চীন উভয়ে বাংলাদেশের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সে জন্য আমরা এ দুই দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুব প্রয়োজন। উত্তেজনা প্রশমন করতে হবে।


বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য বাংলাদেশ তার বড় দুই প্রতিবেশীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র সাক্ষাৎকারের বিষয়টি সময় নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিনি বলেছেন, ভারত ও চীন উভয়ে বাংলাদেশের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা আশা করি, দুই দেশ আলাপ-আলোচনা করে তাদের সমস্যা সমাধান করবে।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এ অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুব প্রয়োজন। সব সমস্যার সমাধান আলোচনা করে করতে হবে। উত্তেজনা প্রশমন করতে হবে।

এর আগে গত সোমবার (১৫ জুন) ভারত সংলঘ্ন লাদাখে চীনা সেনাদের সঙ্গে ভারতীয় সেনাদের সংঘর্ষ হয়। সেখানে ২৩ ভারতীয় সেনা নিহত হন। এছাড়া এ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছে শতাধিক সেনা।

সোমবার গভীর রাতে লাদাখের সুউচ্চ পর্বতমালায় গালওয়ান নদীর পূর্ব পার ধরে পেট্রোলিংয়ে বেরিয়েছিল ভারতীয় সেনার বিহার রেজিমেন্টের একটি পেট্রোলপার্টি। মাঝ রাতে পেট্রোলিংয়ের সময় বিহার রেজিমেন্ট দেখতে পায় গালওয়ান নদীর পশ্চিম প্রান্তে লাইন অফ কন্ট্রোল পার করে পেট্রোল পয়েন্ট ১৪ তে টেন্ট তৈরি করেছে চীনের পিপলস আর্মি। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং তা চরমে পৌঁছায়।


এদিকে চীন ও ভারতের মধ্যে চলমান সংঘাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে, উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস এ আহ্বান জানান।

এর আগে ভারত-চীন সীমান্তের লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সোমবার দুই দেশের সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে ভারতের অন্তত ২৩ সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যান্তনিও গুতেরেসের পক্ষে তার মুখপাত্র এরিক কানেকো বলেন, আমরা ভারত ও চীনের মাঝামাঝি সীমান্ত লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে (এলএসি) সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং উভয়পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। তবে এটা ইতিবাচক যে, উভয় দেশ উত্তেজনা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে।

এর আগে, ১৯৭৫ সালে ভারত-চীন সীমান্তে শেষবার কোনও সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর থেকে ওয়েস্টার্ন সেক্টরে লাদাখে বা ইস্টার্ন সেক্টরে অরুণাচলে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে হাতাহাতি-মারামারি কম হয়নি। কিন্তু এ ধরনের প্রাণঘাতী মারামারি কখনও হয়নি।

তবে এই সংঘাতে কোনও পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। লোহার রড, লাঠি, পাথর নিয়ে হামলা করেছে চীনা সেনা। তারপরই প্রত্যাঘাত করেছে ভারতীয় সেনারা।

ভারত ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ দুটি বেশ কিছুদিন ধরে সীমান্তে ভারী অস্ত্র মজুত করেছে। পূর্ব লাদাখের সীমান্ত অঞ্চলে ধীরে ধীরে এসব অস্ত্র নিয়েছে দুই দেশ। ভারী অস্ত্রের মধ্যে কামান এবং যুদ্ধের গাড়িও রয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ বিরাজ করায় এসব অস্ত্রের মজুত করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, চীন সেনাবাহিনী সীমান্তের যে এলাকায় রয়েছে সেখান থেকে ভারতের অংশে ঢুকতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা লাগবে। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের বিভিন্ন জায়গায় ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াচ্ছে চীনা বাহিনী।

ভারতীয় সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়, চীনের সেনাবাহিনী লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের কাছের ঘাঁটিগুলিতে নানান যুদ্ধের গাড়ি ও ভারী যুদ্ধের সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে। বিষয়টি জানতে পেরে ভারতও আর্টিলারের মতো অস্ত্র ওই এলাকায় পাঠিয়েছে।

বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০

নভেম্বরের মাঝামাঝি ভারতে করোনা আরো ভয়াবহ হবে

নভেম্বরের মাঝামাঝি ভারতে করোনা আরো ভয়াবহ হবে

ভারতে আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তবে, লকডাউনের জেরে দেশটিতে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো প্রস্তুত করায় সুফল মিলবে চিকিৎসা ব্যবস্থায়। এমনটাই মনে করছে, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে গেলো, ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজারের কাছাকাছি। মৃত্যু হয়েছে ৩২২ জনের।


গেলো ২১ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত গড়ে ভারতে কোভিড নাইন্টিনে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৯ হাজার। লকডাউন খুলে আনলক-১ পর্ব শুরু হওয়ার পর সেই আক্রান্তের সংখ্যার গড় গিয়ে দাঁড়ায় ১১ হাজারে। একইভাবে, মৃত্যুর গড় ২৫০ থেকে বেড়ে তিনশোর ওপরে দাঁড়িয়েছে।

এমন বাস্তবতার মধ্যেও ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, লকডাউনের ফলে দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থার ৬০ শতাংশ উন্নয়ন হয়েছে। আর এতে করোনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে ৭৬ দিন সময় লেগেছে। এর ফলে সংক্রমণ সংখ্যা ৬৯ থেকে ৯৭ শতাংশ কম হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে দেশটিতে সংক্রমণ চূড়ান্ত আকার নেবে বলেও সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।

এদিকে বেশ কয়েকটি রাজ্যে শুধু মাত্র জরুরি পরিষেবার সঙ্গে ‍যুক্তদের জন্য লোকাল ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহ থেকে দেশটিতে সব ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, রেঁস্তেরা চালু করা হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখনো স্বাভাবিক কেনাকাটায় বের হচ্ছেন না বলে জানান ব্যবসায়ীরা।


ভারত ৬৮ দিনের লকডাউন শেষ করে ৩১ মে। এরপর থেকে শুরু হয় আনলক-১ নামে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক করার প্রতিক্রিয়া। কিন্তু এই সময়ে দেশটিতে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে।
চীনেরও ৪৩ সৈন্য হতাহত দাবি ভারতের

চীনেরও ৪৩ সৈন্য হতাহত দাবি ভারতের

লাদাখ সীমান্তের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সেনাবাহিনীর সংঘাতে দুই দেশের কমপক্ষে ৬০ জন সেনা অফিসার ও জওয়ান হতাহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ভারতের দাবি এদের মধ্যে ৪৩ জনই চীনা সৈন্য। তবে এদের মধ্যে কতজন আহত বা নিহত হয়েছে তা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করে নি। 

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে এ হামলায় ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) রাতে হামলার ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন ওই সীমান্ত সংঘাতে। সরকারি সূত্রের মতে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে।

ভারতীয় বাহিনীর প্রত্যাঘাতে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সেনা জওয়ানদের হতাহতের সংখ্যা তুলনায় এখনও পর্যন্ত বেশি। পিএলএ'র অন্তত ৪৩ জন সৈনিক হতাহত হয়েছে বলে ভারতীয় সেনা গোয়েন্দারা বেতারে আড়ি পেতে জানতে পেরেছে।


এর আগে, ১৯৭৫ সালে ভারত-চীন সীমান্তে শেষবার কোনও সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর থেকে ওয়েস্টার্ন সেক্টরে লাদাখে বা ইস্টার্ন সেক্টরে অরুণাচলে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে হাতাহাতি-মারামারি কম হয়নি। কিন্তু এ ধরনের প্রাণঘাতী মারামারি কখনও হয়নি। অবাক করার বিষয়; এই সংঘাতে কোনও পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। লোহার রড, লাঠি, পাথর নিয়ে হামলা করেছে চীনা সেনা। তারপরই প্রত্যাঘাত করেছে ভারতীয় সেনারা।

উল্লেখ্য, ভারত ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ দুটি বেশ কিছুদিন ধরে সীমান্তে ভারী অস্ত্র মজুত করেছে। পূর্ব লাদাখের সীমান্ত অঞ্চলে ধীরে ধীরে এসব অস্ত্র নিয়েছে দুই দেশ। ভারী অস্ত্রের মধ্যে কামান এবং যুদ্ধের গাড়িও রয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ বিরাজ করায় এসব অস্ত্রের মজুত করা হয়েছে।


কিছুদিন আগে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, চীন সেনাবাহিনী সীমান্তের যে এলাকায় রয়েছে সেখান থেকে ভারতের অংশে ঢুকতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা লাগবে। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের বিভিন্ন জায়গায় ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াচ্ছে চীনা বাহিনী।

ভারতীয় সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়, চীনের সেনাবাহিনী লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের কাছের ঘাঁটিগুলিতে নানান যুদ্ধের গাড়ি ও ভারী যুদ্ধের সঞ্জাম নিয়ে এসেছে। বিষয়টি জানতে পেরে ভারতও আর্টিলারের মতো অস্ত্র ওই এলাকায় পাঠিয়েছে।

এদিকে ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে পুরোদস্তুর বিমানঘাঁটি গড়ে তুলছে চীন। তাদের ঘাঁটিতে জে-১১ বা জে-১৬ যুদ্ধ বিমানও রয়েছে। গত ২৬ মে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর দেয়।

খবরে বলা হয়, লাদাখে প্যাংগং লেকের ২০০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের ‘গাড়ি কুনসা’য় দশ বছর আগেই একটি বিমানবন্দর বানিয়েছে চীন। বেইজিং তখন জানিয়েছিল, অসামরিক বিমান পরিবহণের জন্যই ওই বিমানবন্দর তৈরি করা হচ্ছে।

কিন্তু উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে, গত এক মাসে ওই বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজ রাতারাতি বেড়ে গেছে। এবং সেখানে রীতিমতো একটি বিমানঘাঁটি তথা এয়ারবেস বানিয়ে ফেলেছে চীন। উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সেখানে যুদ্ধবিমানও দাঁড় করিয়ে রেখেছে চীনের বিমানবাহিনী।

সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০

করোনার বিরুদ্ধে ফ্রান্সের 'বিজয়' ঘোষণা

করোনার বিরুদ্ধে ফ্রান্সের 'বিজয়' ঘোষণা

করোনাভাইরাসে প্রথম জোয়ারে তছনছ ফ্রান্স ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। দীর্ঘ লকডাউনের পর স্বাভাবিক জীবনের ফিরতে শুরু করেছে দেশটির জনগণ; যদিও এখনো সংক্রমণ এবং মৃত্যু থামেনি। এরমধ্যেই করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে 'প্রথম বিজয়' ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। রোববার টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, প্যারিসসহ গোটা ফ্রান্সকে আগামী সোমবার (১৬ জুন) গ্রিন জোনে পরিণত হবে অর্থাৎ সারাদেশে সতর্কতা সর্বনিম্ন করা হবে।

এরফলে দেশটিতে ক্যাফে এবং রেস্টুরেন্টগুলো সম্পূর্ণরূপে খুলতে পরবে।

ভাষণে ম্যাক্রো বলেন, এই প্যানডেমিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হয়নি তবে আমি প্রথম জয়ের জন্য আনন্দিত।


অতিমারি মোকাবেলায় ফ্রান্স এবং ইউরোপকে অন্য দেশের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্যও কাজ করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি। বলেন, আমি চাই আমরা যে শিক্ষা পেয়েছি সেটা যেনো কাজে লাগাতে পারি।

পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য মতে, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফ্রান্সে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ২২০ জন। এরমধ্যে মারা গেছেন ২৯ হাজার ৪০৭ জন। আর সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৭২ হাজার ৮৫৯ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন ৪০৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন আর মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০

ভারতের সঙ্গে বিতর্কিত অংশ নিয়ে নেপালের পার্লামেন্টে মানচিত্র পাস!

ভারতের সঙ্গে বিতর্কিত অংশ নিয়ে নেপালের পার্লামেন্টে মানচিত্র পাস!

ভারতের সঙ্গে বিতর্কিত তিন ভূখণ্ড নিজেদের মানচিত্রে যুক্ত করে নতুন একটি মানচিত্র পাস হয়েছে নেপালের পার্লামেন্টে। শনিবার (১৩ জুন) নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে নতুন মানচিত্র অনুমোদনে আনা সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়।


বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ২৫৮ জন সদস্য। শাসকদল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস এমনকি, ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেপালি দলগুলোও বিলটি সমর্থন করেছে। নয়াদিল্লির আপত্তি উড়িয়ে নেপালের নতুন এই মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিতর্কিত লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখ ভূখণ্ডকে। চীন অধিকৃত তিব্বত লাগোয়া পিথোরাগড় জেলার ওই তিন ভূখণ্ডকে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।

শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০

চীনে গত ২৪ ঘণ্টায় আবারও নতুন করোনা রোগী শনাক্ত

চীনে গত ২৪ ঘণ্টায় আবারও নতুন করোনা রোগী শনাক্ত



চীনে গত ২৪ ঘণ্টায় আবারও নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। নতুন আরও ১১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বলা হয়েছে, নতুন সংক্রমিত ১১ জনের ৫ জন এসেছে বিদেশ থেকে। বাকি ৬ জন বেইজিংয়ের বাসিন্দা। তবে করোনায় মৃত্যুর কোনো খবর পাওয়া যায়নি এদিন। এই নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ৭৫।
আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ৩ হাজার ১৯৭ জনকে মেডিকেল অবজার্ভেশনে রাখা হয়েছে। এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭৪ জন। তবে এদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
শুক্রবার সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন আরও দু’জন। সব মিলিয়ে চীনে সুস্থ হয়েছেন ৭৮ হাজার ৩শতাধিক মানুষ; মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৪ জনের।
ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি করোনায় আক্রান্ত

ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি করোনায় আক্রান্ত



ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির স্ত্রী ও দেশটির ফার্স্ট লেডি ওলেনা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার করোনা পরীক্ষায় তার পজেটিভ ফল এসেছে।
ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে ওলেনা বলেছেন, আজ আমি করোনা পরীক্ষার পজেটিভ রিপোর্ট পেয়েছি। এটি অপ্রত্যাশিত খবর। বিশেষ করে আমি, আমার পরিবার প্রতিনিয়ত মাস্ক, গ্লাভস ও দূরত্ব মেনে চলেছি তারপরও আমার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।
ওলেনা বলেছেন, বর্তমানে তিনি ভালো আছেন। হাসপাতালে ভর্তি হননি। তবে স্বামী ও সন্তান থেকে আইসোলেশনে আছেন তিনি।
ইউক্রেনে শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ২৯ হাজার ৭৫৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৮৭০ জন।

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৬ লাখ স্বাস্থ্যসামগ্রী দিলো আলীবাবা

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৬ লাখ স্বাস্থ্যসামগ্রী দিলো আলীবাবা



প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় চীনের আলীবাবা ফাউন্ডেশন এবং জ্যাক মা ফাউন্ডেশনের দেয়া ৫০টি ভেন্টিলেটর, ডিটেকশন কিট, থার্মোমিটার, মাস্ক, প্রটেকটিভ ক্লোদিং, ফেস শিল্ড, গ্লভসসহ সাড়ে ছয় লাখ জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী হস্তান্তর করেছে মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ।
চীনা ই-কমার্স জায়ান্ট আলীবাবা গ্রুপের অ্যাফিলিয়েট অ্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল দেশীয় প্রতিষ্ঠান বিকাশের মালিকানার অন্যতম অংশীদার। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের কাছে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর এসব জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী হস্তান্তর করেন।
ক্রান্তিকালে এসব স্বাস্থ্যসামগ্রী জরুরি কাজে আসবে উল্লেখ করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং করোনা প্রতিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা-র উদ্যোগে এবং বিকাশের ব্যবস্থাপনায় মানবিক সহায়তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
৫০টি ভেন্টিলেটরসহ এই তালিকায় রয়েছে ২০ হাজার কোভিড-১৯ ডিটেকশন কিট, ৬০ হাজার কেএন-৯৫ মাস্ক, ৩ লাখ ফেস মাস্ক, ২ লাখ ইন্সপেকশন্স গ্লভস, ১৫ হাজার ফেস শিল্ড, ১৫ হাজার প্রটেক্টিভ ক্লোদিং, ৮০টি থার্মোমিটার, ২০ হাজার নিউক্লিক অ্যাসিড আইসোলেশন এবং ২০ হাজার স্যাম্পল প্রিজারভেশন সলিউশন্স।
বিকাশ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, আমাদের কৌশলগত অংশীদার আলীবাবা গ্রুপের পক্ষ থেকে এই সামগ্রী বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে পৌঁছাতে পেরে আমরা আনন্দিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে অংশগ্রহণই কেবল নয়, এদেশের মানুষের ভালো থাকা নিয়েও জ্যাক মা এবং তার প্রতিষ্ঠান দুটি সচেতন। তাই জরুরি মুহুর্তে তারা এই সহায়তা পাঠিয়েছেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মো. মনিরুল ইসলাম।

সোমবার, ১ জুন, ২০২০

লিবিয়ায় মানবপাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন হাজী কামাল

লিবিয়ায় মানবপাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন হাজী কামাল

লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা কামাল হোসেন ওরফে হাজী কামালকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। প্রায় ৪শ’ লোককে অবৈধভাবে তিনি বিদেশে পাঠায়। র‌্যাব বলছে, তিনিই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে মানবপাচারকারীর মূল হোতা। এরসঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে র‌্যাব।


বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে অবৈধ ভাবে ইতালিতে যাওয়া। তারা বিভিন্ন শ্রমিকদের যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখানো হয়। এবং তাদের বিদেশে যাওয়ার পরই বাকি টাকা দেবে। এ ধরনের আশ্বাস দেয়া হয়।

আমারা একাধিক দালাল পেয়েছি। তারা মাদারীপুর, শরিয়রতপুরসহ বিভিন্ন জেলার লোক রয়েছে। তারা প্রথমে বাইরুটে ঢাকা থেকে কলকাতা নেয়া হয়। এই হাজী কামালই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা বাংলাদেশ থেকে ১০-১৫ দিন লাগে বেনগাজীতে যাওয়ার। এ চক্রটি লিবিয়াতে যাওয়ার পরই তারা টাকার জন্য পেশার দেয়া শুরু হয়।

র‌্যাব জানায়, লিবিয়ার ত্রিপোলিতে কিছু কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এই বেনগাজীতে পৌঁছানোর পরই তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর তাদের ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবারও পরিবারের কাছে ২ থেকে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়।  


সেখানে আদের শুরুতে ভূমধ্যসাগরে বোট চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তিনি গত ১০-১২ বছরে ৪শ’ লোককে পাঠিয়েছেন। তার সঙ্গে যুক্ত আছেন ১৫-১৬ জন। আমরা পুরো সার্কিটের তথ্য পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলতে থাকবে।

গত ২৮ মে লিবিয়ার মিজদা শহরে ২৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মারা যাওয়া ২৬ জনসহ ৩৮ বাংলাদেশি ও কিছু সুদানি নাগরিক প্রায় ১৫ দিন ধরে ওই অপহরণকারী চক্রের হাতে আটক ছিলেন। ইতালিতে অভিবাসনের উদ্দেশে ওই ৩৮ জন বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে লিবিয়ায় যান।

রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

পঙ্গপাল বিক্রি করে আয় করছে পাকিস্তানের কৃষকরা

পঙ্গপাল বিক্রি করে আয় করছে পাকিস্তানের কৃষকরা



তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পঙ্গপালের হামলায় হুমকিতে পড়েছে ভারত ও পাকিস্তানের খাদ্য নিরাপত্তা।ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল ছড়িয়ে পড়েছে দুই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এ সংকটের মাঝেও নতুন একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছেন পাকিস্তানের কৃষকরা। পঙ্গপাল শুধু দমনই নয়, তা বিক্রি করে আয়েরও বড় উপায় হয়ে উঠেছে পাঞ্জাবের ওকারা জেলায়।

ক্ষুদ্র এ পতঙ্গ হয়ে উঠেছে মুরগির উচ্চপ্রোটিন যুক্ত খাবার। ওকারা জেলায় উদ্ভাবনী এ প্রকল্প এনেছেন পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ খুরশিদ ও পাকিস্তান কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের জৈবপ্রযুক্তিবিদ জোহর আলী। আলী বলেন, ‘আমরা যখন শুরু করলাম তখন অনেকেই উপহাস করেছে। কারণ পঙ্গপাল ধরে বিক্রি করবে এ চিন্তা তখনও পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি।’ খুরশিদ বলেন, ‘আমরা ইয়েমেনের ২০১৯ সালের একটি উদাহরণ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষ কবলিত ওই দেশটিতে শ্লোগান উঠেছিল, ‘পঙ্গপাল খেয়ে ফেল, ওরা ফসল খাওয়ার আগে’।

তারা দুজনে মিলে পাকিস্তানের জনসংখ্যাবহুল প্রত্যন্ত গ্রাম ওকারা জেলাতে তিনদিনের পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেন। প্রকল্পটি ছিল দেপালপুরে পেপলি পাহার বনে। সেখানে গত ফেব্রুয়ারি থেকেই বিপুল সংখ্যক পরিপক্ক পঙ্গপাল আসতে থাকে। আর ওই বন নির্বাচন করা হয়েছে কারণ ওখানে পঙ্গপালের ওপর কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। এরপর একটি শ্লোগান ছড়িয়ে দেন তারা, ‘পঙ্গপাল ধর, আয় কর এবং ফসল বাঁচাও’। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রতি কেজি পঙ্গপালের বিনিময়ে ২০ পাকিস্তানি রুপি করে দেয়া হয়।

খুরশিদ বলেন, ‘পঙ্গপাল সাধারণত দিনের আলোতে উড়ে বেড়ায়, রাতে ওরা গাছপালায় বা উন্মুক্ত ময়দানে বিশ্রাম নেয়। তখন একদম নড়াচড়া করে না। মৃতের মতো পড়ে থাকে। ওই সময় পঙ্গপাল ধরা অনেক সহজ। আমরা কৃষকদের সেই বুদ্ধি দিলাম। তাতেই কাজ হলো। কৃষকরা প্রথম রাতেই ৭ টন পঙ্গপাল ধরেছে। আমরা সেগুলো পার্শ্ববর্তী মুরগির খাবার তৈরির কারখানায় বিক্রি করেছি। ওই রাতে কাজ করে কোন কোন কৃষক ২০ হাজার রুপিও আয় করে।'

আলী বলেন, ‘প্রথম রাতে ১০ থেকে ১৫ জন কৃষক কাজ করে। কিন্তু লোভনীয় এ আয়ের খবর চর্তূদিকে ছড়িয়ে পড়লে তৃতীয় রাতে কয়েকশ কৃষক জড়ো হয়। তারা নিজেরাই থলে নিয়ে আসে এবং সারারাত পঙ্গপাল ধরে থলে ভর্তি করে ফেলে। আমরাও তাদের বিনিময় দিয়ে দিলাম।’

পাকিস্তানে মুরগির খাবার তৈরির প্রতিষ্ঠান হাই-টেক ফিডসের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আতাহার বলেন, ‘পঙ্গপাল যদি কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই ধরা যায় তবে এটি অত্যন্ত উচ্চপ্রোটিন যুক্ত খাবারে পরিণত হয়। এ খাবার হাস-মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুকে খাওয়ানো যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যে সয়াবিন আমদানি করে প্রাণীর খাবার তৈরি করি, তাতে প্রোটিন ৪৫ শতাংশ, আর পঙ্গপালে আছে ৭০ শতাংশ।পঙ্গপালে আমাদের খরচও পড়ে অনেক কম।’

প্রকল্পের এ সাফল্যে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও সাময়িক স্থগিত রাখতে হয় করোনা মহামারির কারণে। আলি বলেন, ‘এখন লকডাউন শিথিল হয়েছে, আমরা প্রকল্পটি আবার শুরু করব। গ্রামে কাজহীন বহুমানুষ আছে, আমরা তাদের আয়ের জন্য এ সুযোগ কাজে লাগাব।’

সূত্র: সামাটিভি

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

 যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৮৫ হাজার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৮৫ হাজার ছাড়াল


যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৮৫ হাজার ছাড়িয়েছে। বুধবারও দেশটিতে একজন বাংলাদেশিসহ মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৮০০ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজারেরও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি বিভিন্ন সংগঠন দুর্যোগে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রোগ বিশেষজ্ঞদের মতবিরোধ চলছেই।

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন খোদ হোয়াইট হাউসে করোনাভাইরাস নিয়ে গঠিত টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা। বুধবারও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় রোগ সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ ডক্টর এন্থনি ফাউসির বক্তব্য নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।


এদিকে করোনা মহামারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বাংলাদেশি সংগঠনগুলো বাজার-সদাই নিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষের। কখনও কখনও বাড়িতেও পৌঁছে দেয়া হচ্ছে খাবার। জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি বুধবার একদিনেই তিনশ পরিবারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়েছে।

নিউইয়র্ক জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন আমরা যাদের প্রয়োজন এম বেশ পরিবারকেকে ১৫ আইটেমের বেশি করে ৩ সপ্তাহের খাবার দিয়েছি একেকটি পরিবারকে।

নিউইয়র্ক জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোস্তফা আল আমিন বলেন, আসুন আমরা সকলের পাশে দাঁড়াই।

উদ্যোক্তরা জানান, ঈদকে সামনে রেখে তারা তিন সপ্তাহের খাবার দিয়েছেন প্রতিটি পরিবারকে।যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত আড়াইশরও বেশি বাংলাদেশি কোভিড-নাইনটিনে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এরমধ্যে বেশির ভাগই নিউইয়র্কের বাসিন্দা।
করোনাভাইরাসে ১৮ দেশে ৭১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

করোনাভাইরাসে ১৮ দেশে ৭১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু



করোনাভাইরাসে দেশের বাইরেও মৃত্যুর মিছিল থামছে না। এপর্যন্ত আমেরিকাসহ ১৮ দেশে ৭১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, দেশটিতে এ পর্যন্ত ১২০ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া আরও ১৭ দেশে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৯৭ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্টে মারা গেছেন ২৬৪ জন, যুক্তরাজ্যে ২২০জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪৬ জন, কুয়েতে ১৮ জন, ইতালিতে ৯ জন, কানাডায় ৯ জন, সুইডেনে ৮ জন, কাতারে ৬ জন, ফ্রান্স ও স্পেনে ৫ জন করে এবং বাহরাইন, মালদ্বীপ, পর্তুগাল, লিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, গাম্বিয়া ও কেনিয়ায় একজন করে বাংলাদেশি মারা গেছেন।

এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫২৩ জন। যা একদিনে আক্রান্তের হিসেবে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪২ হাজার ৮৪৪। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ২৩ জন। এতে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৮২ জনে।
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ মোট ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে স্থানীয় এক মানবপাচারকারীর দলের সদস্যরা।
ইউ এস নিউজের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) স্থানীয় সময় রাত নয়টার দিকে লিবিয়ার মিজদা শহরে এই হত্যাকাণ্ড চালায় আন্তর্জাতিক পাচারকারীর সদস্যরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পাচারকারী পরিবার তাদের সঙ্গীদের মৃত্যুর প্রতিশোধের জন্য ৩০ জন অভিবাসীকে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার কর্তৃপক্ষ (জিএনএ) এই তথ্য জানিয়েছে। 

লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় আরও ১১ জন বাংলাদেশি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

তেলসমৃদ্ধ অর্থনীতির কারণে দীর্ঘকাল থেকে অভিবাসীদের কাছে লিবিয়া অন্যতম ‘আকর্ষণীয়’ একটা দেশ। পাশাপাশি এই দেশ ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে অনেকে ইউরোপেও ঢোকার চেষ্টা করেন।

লিবিয়াভিত্তিক অভিবাসীদের আন্তর্জাতিক সংস্থার মুখপাত্র সাফা মেশেলি ভুক্তভোগীদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আমরা খবরটি পেলাম। বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। যারা হাসপাতালে আছেন তাদের সাহায্য করছি।

সূত্র: ইউএস নিউজ, রয়টার্স