স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৪

গরমে এসির তাপমাত্রা কত থাকলে শরীর সুস্থ থাকে?

গরমে এসির তাপমাত্রা কত থাকলে শরীর সুস্থ থাকে?

 

গরমে এসির তাপমাত্রা কত থাকলে শরীর সুস্থ থাকে?


গরমে দাবদাহে প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে এসি ছাড়া যেন চলছেই না। কিন্তু আপনি কি জানেন, সুস্থতা নিশ্চিতে এসির তাপমাত্রা কত থাকা ভালো?






কলকাতার বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আশিস মিত্র বলছেন, তীব্র গরমে সঠিক তাপমাত্রায় না থাকলে শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। গরমে যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই সবারই জানা প্রয়োজন ঠিক কত তাপমাত্রায় এসি চালানো উচিত।

 
ডা. আশিস বলেন, ঘরে এসি ব্যবহার করলে সঠিক কত পয়েন্টে রাখতে হবে তা বলা যাচ্ছে না। কারণ প্রাকৃতিক তাপমাত্রা কথনও বাড়ছে আবার কখনও কমছে। তাই আমি বলব, বাইরের তাপমাত্রা আর ঘরের তাপমাত্রার পার্থক্য সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৩ হওয়া প্রয়োজন। আর সে হিসাবেই এসির পয়েন্ট নির্ধারণ করা উচিত।
 
উদাহরণ টেনে ডা. আশিস বলেন, ধরুন বাইরে তাপমাত্রা ৪০ চলতে থাকলে এসির পয়েন্ট হতে হবে ২৭ অথবা ২৮। এ নিয়ম মেনে চললেই শারীরিক কোনো সমস্যা হবে না। হুট করে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে।
 
অনেকেই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এসির পয়েন্ট  ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি দিয়ে দেন। এত ঠান্ডায় ঘুমানো শান্তির মনে হলেও তা শরীরে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই ঘুমানোর সময় ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি এসির পয়েন্ট দেয়ার পর স্লিপ মোড অন করে দিন। এতে  ধীরে ধীরে বাইরের তাপমাত্রা অনুযায়ী এসি নিজের টেম্পারেচার ঠিক করে নেবে।

 
যেসব এসিতে স্লিপ মোড নেই, তাদের ক্ষেত্রে ডা. আশিস বলছেন, এসি বন্ধ করে ফ্যান মোড বা পাখা চালিয়ে দিতে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো গরমে অনেকটা সময় কাটিয়ে হঠাৎ এসি রুমে ঢুকে পরবেন না। এতে রক্তের ধমনী সংকুচিত হয়ে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

 
তাই চেষ্টা করুন, এসি রুম থেকে বের হয়ে কিছুক্ষণ ছায়ায় থেকে তারপর রোদে বের হতে। আবার রাস্তার প্রখর রোদ থেকে কিছুক্ষণ ছায়ায় দাঁড়িয়ে তারপরই এসি রুমে প্রবেশ করুন।  

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২০

ফের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনে ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ফের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনে ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

করোনার চিকিৎসায় প্রয়োগ করা নিয়ে ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনে ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মাত্র ১০ দিন আগে দেয়া সিদ্ধান্ত আবারও পরিবর্তন করেছে সংস্থাটি।


ওষুধটি প্রথমে প্রয়োগের অনুমতি দিতে পরে তা বন্ধ রাখতে বলেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ১০ দিন আগে সেটি আবার প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু আবারও ওষুধটি বন্ধ রাখতে বলেছে সংস্থাটি।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে ওষুধটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ সিদ্ধান্ত দেয়।

‘হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বন্ধ করা হয়েছে,’ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন সংস্থার বিশেষজ্ঞ আনা মারিয়া হেনাও-রেসট্রেপো।


এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ক্লোরোকুইন ও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বিবৃতি দিয়েছিল।

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শতাধিক প্রতিষ্ঠান ওষুধ তৈরির জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন ওষুধ নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি পুরনো বিভিন্ন ওষুধও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হচ্ছে। পুরাতন ওষুধগুলোর মধ্যে আলোচনায় রয়েছে ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন।

ওষুধটি পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলমান থাকার এক পর্যায়ে গত ২৫ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হঠাৎ করে এর প্রয়োগ নিষিদ্ধ করে। মূলত একটি মার্কিন কোম্পানির জরিপের ফলাফল দেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই সংস্থার জরিপ নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য সন্দেহ দেখা দেয়ায় আবারও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।


মেডিকেল এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সার্জিস্ফিয়ার নামের একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের চালানো গবেষণাটি গত ২২ মে বিশ্বখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ‘ল্যানসেট’ ও ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’ এ প্রকাশ করা হয়।

গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের হাইড্রোক্লোরোকুইন ব্যবহারের ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

সার্জিস্ফিয়ার দাবি করে, তারা বিশ্বের ১২০০টি হাসপাতালের ৯৬ হাজার রোগী ওপর এই গবেষণা চালিয়েছেন। ফলে তাদের এই গবেষণা বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দেয় এবং দুনিয়ার তাবৎ প্রতিষ্ঠান একটিকে গুরুত্ব দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সার্জিস্ফিয়ারের গবেষণাকে মূল্যায়ণ করে হাউড্রোক্লোরোকুইন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে।

কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার এক সপ্তাহের মাথায় আবারও ওষুধটি প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ইকোনোমিক টাইমসের খবরে বলা হয়, হাইড্রোক্লোরোকুইন প্রয়োগ নিষিদ্ধ করার পর সার্জিস্ফিয়ারের গবেষণায় ত্রুটি ধরা পড়ায় মাত্রা ৯ দিনের মাথায় ৩ জুন সেটি আবার প্রয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়।
করোনাকালে দ্বিগুণ ডেঙ্গু রোগী, তথ্য নেই চিকঙ্গুনিয়ার!

করোনাকালে দ্বিগুণ ডেঙ্গু রোগী, তথ্য নেই চিকঙ্গুনিয়ার!

করোনা মহামারির মধ্যেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। গতবছরের এ সময়ের চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখনই দ্বিগুণ। আর চিকনগুনিয়া রোগীর কোনো তথ্যই নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে।


সিটি করপোরেশন বলছে, জনগণ সচেতন না হলে তাদের একার পক্ষে এডিস মশা নিধন সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের বাজে অভিজ্ঞতায় সিটি করপোরেশন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি। আর তাদের এই সমন্বয়হীনতায় ভয়াবহ পরিণতির শঙ্কা বাড়ছে।

করোনায় চিকিৎসায় দেশের হাসপাতালগুলো যখন হিমশিম খাচ্ছে ঠিক তখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা চিকনগুনিয়া নিয়েও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বছরের এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭৫, বর্তমানে যার সংখ্যা ৩০৫ জন। এর মধ্যে ২৩৮ জনই ঢাকার। তারপরও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলছে কাদা ছোড়াছুড়ি। সাধারণ মানুষ সিটি করপোরেশনের গাফিলতিকে দায়ী করলেও সিটি করপোরেশন এবারও দেখছে সচেতনতার অভাবকে।


নাগরিকদের ভাষ্য, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যবসা করি। কোনো তৎপরতা চোখে দেখিনি। হটাৎ এসে কামান দাগিয়ে চলে যায়। 

যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে একমত নয় সিটি করপোরশন। তারা বলছে, একার পক্ষে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার. জেনারেল মো. শরীফ আহমেদ বলেন, সারাদেশে আজ ৮ জন পাওয়া গেছে। তাহলে এটা বেশি বেড়েছে কীভাবে বললেন? 


তাহলে এবারও কি গতবারের চেয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে?

নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, তেমন কোনো প্রচার প্রচারণাও আমরা দেখছি না। জরিমানা কার্যকরের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করার কার্যকলাপও তেমন উল্লেখ করার মতো নয়। 

যদিও চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চিকনগুনিয়া আক্রান্তের কোনো তথ্যই নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে। গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসাবে ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়।
অক্সফোর্ডের করোনার টিকা প্রথমে পাবে যেসব দেশ

অক্সফোর্ডের করোনার টিকা প্রথমে পাবে যেসব দেশ

চলতি বছরেই বাজারে আসতে পারে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক। তবে প্রথমেই যাবে ইউরোপে। ব্রিটিশ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা এরই মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

চলতি বছরের শেষেই বাজারে আসছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিক করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক। ব্রিটিশ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা এরই মধ্যে ইউরোপের ইনক্লুসিভ ভ্যাকসিনস অ্যালায়ান্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। যার আওতায় জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও নেদারল্যান্সডে ৪০০ মিলিয়ন ডোজ প্রতিষেধক সরবরাহ করবে কোম্পানিটি।

এদিকে জার্মান প্রতিষ্ঠান বিয়নটেক এবং কিউরভ্যাক ১৪৪ জন মানুষের দেহে করোনা টিকার দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে। এদিকে প্রতিষেধক পেতে আরও সময় লাগলেও ইবোলার প্রতিষেধক রেমডিসিভির নিয়ে আশাবাদী চিকিৎসকসহ প্রবাসীরাও।

অন্যদিকে কোভিড সংক্রমণ যেন পিছু ছাড়ছে না জার্মানির। গত কয়েকদিনে সংক্রমণ কমলেও আবার বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের ২১ জন কৃষি শ্রমিক, শতাধিক শিক্ষার্থী ও মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় ৪শ’ কর্মী নতুন করে সংক্রমিত হওয়ায় আতঙ্ক বেড়েছে।

বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০

পুলিশ হাসপাতালের প্রশংসা চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের

পুলিশ হাসপাতালের প্রশংসা চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের

সফররত চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল করোনাক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের (সিপিএইচ) ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা প্রটোকলের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। 


প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোববার (১৪ জুন) সিপিএইচ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা চিকিৎসক এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সিপিএইচ কর্তৃপক্ষ শুধু করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা সেবা প্রদান নয়, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গ্লাভস, মাস্ক, পিপিইসহ অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতির ওপরও বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি বিষয়ক সেমিনার এবং ওয়ার্কশপ আয়োজন করছে। ফলে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং পুলিশসহ অন্যান্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম।

বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশনায় সিপিএইচ এ কোভিড আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ফলে ইতোমধ্যে এ হাসপাতালে সর্বোচ্চ সংখ্যক কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী সুস্থতা লাভ করেছেন।
করোনা রোগীদের সেবা দিতে অনীহা, ১০ চিকিৎসক বরখাস্ত

করোনা রোগীদের সেবা দিতে অনীহা, ১০ চিকিৎসক বরখাস্ত

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় ১০ চিকিৎসক এবং একজন স্টোরকিপারকে অব্যাহতি দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় এসব চিকিৎসক এবং কর্মকর্তাকে বরখাস্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব তাদের অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী। 

অব্যাহতিপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা হলেন- সিদ্ধার্থ শংকর দেবনাথ, ফরিদুল আলম, আবদুল মজিদ সিকদার, বিজয় তালুকদার, সেলিনা আকতার, মোহন দাশ, ইফতেখারুল ইসলাম, সন্দ্বীপন রুদ্র, হিমেল আচার্য এবং ডা. প্রসেনজিৎ মিত্র। এছাড়া বরখাস্তকৃত স্টোরকিপার হলেন মহসিন কবির। 

নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারকে আইসোলেশন সেন্টারে রূপ দেয়া চিকিৎসা কেন্দ্রটি ১৩ জুন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও এখনো কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। আগামী দু’একদিনের মধ্যে আড়াইশ’ শয্যার এ আইসোলেশন সেন্টারে রোগী ভর্তি করানোর কথা রয়েছে। মূলত মৃদু করোনা উপসর্গ রয়েছে এমন রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হবে এখানে। 


সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আক্তার চৌধুরী সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, এসব চিকিৎসককে নবগঠিত আইসোলেশন সেন্টারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এমনকি তাদের ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হয়। কিন্তু আইসোলেশন সেন্টারে রোগী ভর্তি হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তারা দায়িত্ব পালনে অপরাগতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ওই আইসোলেশনে স্টোরকিপারও যোগ দিতে অপরাগতা জানানোর কারণে ১১ জনকেই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় সিটি কর্পোরেশন।

চিকিৎসকদের করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে অনীহার বিষয়টি সম্পর্কে ডা. সেলিম আক্তার জানান, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়োজিত চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, টেকনিশিয়ান এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বাছাই করে আইসোলেশন সেন্টারে পোস্টিং দেয়া হয়েছিল। ঝুঁকি বিবেচনায় এসব চিকিৎসকদের বেতনসহ অন্যান্য ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রণোদনের কথাও বলা হয়েছে।

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনও এসব চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছেন।  


প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও জানান, সোমবার থেকে আইসোলেশন সেন্টারে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও রোববার থেকেই তারা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। একাধিকবার ফোন দিলেও এদের অনেকেই ফোন ধরা থেকে বিরত থাকেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত জানার পর পরই কর্পোরেশন এসব চিকিৎসককে বরখাস্ত করে। বরখাস্ত হওয়া চিকিৎসকদের একটি অংশ আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকায় করোনা রোগীদের সেবা দিতে আগ্রহী হয়নি বলে ধারণা করছেন তিনি। এর মাঝে বেশ কজন রয়েছেন নবীন চিকিৎসক।
বাংলাদেশেও ব্যবহার হচ্ছে করোনার প্রথম ‘জীবন রক্ষাকারী’ ওষুধ ডেক্সামেথাসোন

বাংলাদেশেও ব্যবহার হচ্ছে করোনার প্রথম ‘জীবন রক্ষাকারী’ ওষুধ ডেক্সামেথাসোন

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর প্রথম জীবন রক্ষাকারী ওষুধ হিসেবে ডেক্সামেথাসোন (Dexamethasone) প্রয়োগে যুগান্তকারী ফলাফল পেয়েছেন যুক্তরাষ্টের বিজ্ঞানীরা। ওষুধটি বাংলাদেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ব্যাপকভাবে সস্তা ও সহজলভ্য এ ওষুধটি কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হয়ে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের জীবন বাঁচাতে পারে।

ডেক্সামেথাসোন প্রয়োগ করলে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা ও অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি কমায়।


অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্টিন ল্যানড্রে বলেন, ‌কৃত্রিম অক্সিজেনের সাহায্য লাগছে বা ভেন্টিলেটরে রয়েছে এমন করোনা রোগীদের দেহে এ ওষুধ প্রয়োগ করে দেখা গেছে, তাদের এক তৃতীয়াংশ প্রাণে বেঁচে যাচ্ছেন। এবং সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এ ওষুধের খরচও খুব বেশি নয়। কোনও ধরনের সংক্রমণ কমানোর জন্য এ ওষুধটি ব্যবহার করা হয়।‌
মার্টিন ল্যানড্রে ও পিটার হরবি এ গবেষণায় একসঙ্গে কাজ করছেন। দ্বিতীয়জন বললেন, এ‌ত উল্লেখযোগ্যভাবে মৃত্যুর হার কমাতে এর আগে দেখা যায়নি, যা এ স্টেরয়েডের ওষুধটি করে দেখাল।‌

দুই বিশেষজ্ঞই ডেক্সামেথাসোনকে প্রতিটি হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার করার পরামর্শ দিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় প্রণীত জাতীয় নির্দেশিকায় ডেক্সামেথাসন প্রয়োগের কথা বলা আছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাসপাতালে এ ওষুধটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলও ভালো পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান সীতেশ চন্দ্র বাছার গণমাধ্যমকে বলেন, ওষুধটি বাংলাদেশে সুলভ মূল্যে বড় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই তৈরি করছে বহু বছর ধরে।

রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০

বন্ধ হচ্ছে সূর্যের হাসি ক্লিনিক, বিপাকে কর্মীরা

বন্ধ হচ্ছে সূর্যের হাসি ক্লিনিক, বিপাকে কর্মীরা

করোনাভাইরাসে দেশের মানুষ যখন বিপর্যস্ত তখন তৃণমূল পর্যায়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠির স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সূর্যের হাসির অধিকাংশ ক্লিনিক পহেলা জুলাই থেকে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এতে চাকরি হারাচ্ছেন এই ক্লিনিকগুলোর দুই হাজার কর্মী। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।  
 
১৯৯৭ সাল দাতা সংস্থা ইউএসএআইডি'র অর্থায়নে দেশের ৬৪টি জেলায় ৩৯৯টি সূর্যের হাসি ক্লিনিক নামে সরকারের সহযোগী সংস্থা হিসেবে তৃণমূলের প্রায় তিন কোটি মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে আসছে। আগে ক্লিনিকগুলো ২৬টি এনজিও'র মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ২০১৮ সাল থেকে এনজিওগুলোকে বিলুপ্ত করে ৩৯৯টি ক্লিনিকের মধ্যে ৩৬৯টি ক্লিনিক নিয়ে সূর্যের হাসি নেটওর্য়াক দায়িত্ব গ্রহণ করে। চলতি বছর দেশের ১৫৮টি ক্লিনিক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এতে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণকারী নিম্নআয়ের ও হতদরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হবে বলে মনে করছেন এই এনজিও নেতা।


এনজিও ফেডারেশন সভাপতি বেলাল আহমদ বলেন, যারা বাংলাদেশে তিন কোটি মানুষকে সেবা দেয় তাদের দুই তৃতীয়াংশ কিন্তু বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে করে অনেকে বঞ্চিত হবে। 

অন্যদিকে, করোনা পরিস্থিতির মাঝে চাকরি হারাচ্ছেন দুই হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। চাকরিহারা এই কর্মীরা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূর্যের হাসি ক্লিনিকের  ক্লিনিক ম্যানেজার মো. তাজ উদ্দিন বলেন, মানবতার মা, আপনি আমাদের এই সূর্যের হাসি ক্লিনিকের বেআইনি আদেশকে স্থগিত করে আমাদের চাকরিতে বহাল রাখবেন। 


৩০ জুন থেকে দেশের ১৫৮টি ক্লিনিক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক। 

সোমবার, ১ জুন, ২০২০

নিম্ন রক্তচাপের ঘরোয়া সমাধান

নিম্ন রক্তচাপের ঘরোয়া সমাধান



নিম্ন রক্তচাপ (বিপি) হাইপোটেনশন হিসাবে পরিচিত। আপনার রক্তচাপ যদি ৯০ এমএমএইচজি এবং ৬০ এমএমএইচজি থেকে কম হয় তবে এটি নিম্ন রক্তচাপ।

উচ্চ রক্তচাপের মতো নিম্ন রক্তচাপ অতটা উদ্বেগজনক নয়। তবে, যদি আপনার রক্তচাপ ক্রমাগত কম থাকে বা ঘন ঘন হ্রাস পায়, তবে এটি উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।

যদি আপনি ক্রমাগত মাথা ঘোরা এবং ক্লান্তি অনুভব করেন, তবে এমন হতে পারে যে আপনার অঙ্গগুলিতে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ হচ্ছে না।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রক্তচাপ বাড়ানোর জন্য আপনার চিকিৎসা সংক্রান্ত হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

রক্তচাপের লক্ষণ
হালকা মাথাব্যথা অনুভব করা, মাথা ঘোরা, মূর্ছা যাওয়া, বুকে ব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি, তৃষ্ণা বৃদ্ধি এবং বমি বমি ভাব নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণ। এসব লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হন, যাতে আপনি নিম্ন রক্তচাপ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের সাবধানতা অবলম্বন করতে পারেন।

চলুন জেনে নিই, নিম্ন রক্তচাপ বাড়ানোর ঘরোয়া উপায়-

পানি পান করুন
যখনই আপনি নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণ অনুভব করবেন, সঙ্গে সঙ্গে আপনার কিছুটা পানি পান করা উচিত। পানি রক্তের পরিমাণ বাড়ায়, যা কম রক্তচাপের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে।


অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাবার খান
আপনি যদি প্রায়শই নিম্ন রক্তচাপের সম্মুখীন হন, তবে দীর্ঘ বিরতিতে খাবার খাওয়ার পরিবর্তে আপনার অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাবার খাওয়া উচিৎ। অল্প অল্প করে খাওয়া খাবার রক্তচাপ কমে যাওয়া রোধ করতে পারে।

কিছুটা নুন খান
যখন নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণ অনুভব করেন তখন কিছুটা লবণ খেতে পারেন। লবণ চট করে রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়াও, নিম্ন রক্তচাপের লোকেরা রক্তের চাপ স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে কিছুটা বেশি লবণ খাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

বসার সময় পা ক্রস করুন
যখনই আপনি নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণ অনুভব করতে শুরু করবেন, তখন পা ক্রস করে বসে থাকার চেষ্টা করুন। এটি রক্তচাপ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

হঠাৎ অবস্থানের পরিবর্তন এড়িয়ে চলুন
আপনি যদি নিম্ন রক্তচাপের ঝুঁকিতে থেকে থাকেন তবে অবশ্যই হঠাৎ করে বসে পড়বেন না বা দাঁড়িয়ে যাবেন না। কারণ, হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তনের ফলে মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব এবং ব্ল্যাক-আউট অনুভব করতে পারে। শরীরের অবস্থানের হঠাৎ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ড দ্রুত পর্যাপ্তরূপে রক্ত পাম্প করতে ব্যর্থ হতে পারে।

অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন
নিম্ন রক্তচাপ থাকলে অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ, এটি রক্তচাপকে আরও হ্রাস করতে পারে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

লকডাউনে অনিদ্রা কাটাতে করণীয়

লকডাউনে অনিদ্রা কাটাতে করণীয়


করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে লকডাউনে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন মানুষ। এই মহামারিতে ঘরে থাকতে থাকতে অনেকেই অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ায় ভুগছেন। অথচ, এই পরিস্থিতিতে কম ঘুম বা অনিদ্রা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অপর্যাপ্ত ঘুমে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যেতে পারে।

ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ঘুম কম হলে, মানুষের শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, রক্তে শর্করা বাড়ে, রক্তচাপ বাড়ে। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ অবস্থা দীর্ঘমেয়াদি হলে ক্লান্তি, অবসাদ, মনোযোগহীনতা, চিন্তা ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ ইত্যাদি সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

চলুন জেনে নিই, লকডাউনে অনিদ্রা কাটাতে করণীয়:

  • লকডাউনের এই সময় সবার রুটিনের ব্যত্যয় ঘটছে। তারপরও রুটিন মেনে চলার চেষ্টা করুন। নির্দিষ্ট সময় ঘুমাতে যাওয়া, আর নির্দিষ্ট সময় ওঠার অভ্যাস ধরে রাখুন।

  • চোখে ঘুম এলেই কেবল বিছানায় যাবেন। বিছানায় যাওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না এলে উঠে পড়ুন। বই পড়ুন অথবা গান শুনুন, কিংবা পছন্দের কিছু করুন। তাই বলে স্নায়ু উদ্দীপ্ত করে এমন কিছু, যেমন করোনার সংক্রমণের সংবাদ দেখা-শোনা, সিনেমা দেখা ইত্যাদি করবেন না।
  • শোবার ঘর ও বিছানা শুধু ঘুমানোর জন্যই ব্যবহার করতে হবে। বিছানায় ল্যাপটপে কাজ করা, মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকা, গেমস খেলা, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি উচিত নয়।
  • ঘুমের সময়ের ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে চা-কফি ইত্যাদি পান করবেন না।
  • দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ত্যাগ করুন। যাদের ঘুমের সমস্যা হচ্ছে, তারা দিনের বেলা ঘুমানো বাদ দিন।
  • এ সময় মানসিক চাপ কমাতে অতিরিক্ত করোনা মহামারিসংক্রান্ত সংবাদ, টক শো ইত্যাদি দেখবেন না। ঘুমের আগে তো নয়ই।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিছুতেই ঘুমের ওষুধ সেবন করবেন না। বিশেষ করে, যাদের সচরাচর ঘুমের সমস্যা হয় না, তারা তো নয়ই। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।


কোন কোন অবস্থায় ভুলেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যাবে না?

কোন কোন অবস্থায় ভুলেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যাবে না?


করোনাভাইরাস মহামারির পর হাত ধোয়া আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহারও বেড়েছে। হাতের জীবাণু দূর করতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করলেও কিছু সময়ে এটি থেকে দূরে থাকা উচিত। চলুন তেমনই কয়েকটি অবস্থা সম্পর্কে জেনে নিই।
অধিক পরিমাণে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নয়
জীবাণু ধ্বংসের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ভালো। তবে অধিক পরিমাণে এটি ব্যবহার করলে হাতের ভালো ব্যাকটেরিয়াকেও এটি মেরে ফেলতে পারে। যা আমাদের সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে। এই ভালো মাইক্রোবায়োমগুলোকে বাঁচাতে ঠিক কতটুকু হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উচিত তা নির্ণয় করা অবশ্য কঠিন। তবে কিছু কাজ রয়েছে যেগুলো করলে আপনি হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার এড়াতে পারবেন।
সাবান ও পানি
আপনার পাশেই যদি সাবান ও পানি থাকে তাহলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বাদ দিন। কারণ, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতে, জীবাণু থেকে মুক্তি পাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো সাবান ও পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া। যেকোনো পরিস্থিতিতে হাত পরিষ্কার করার জন্য সাবান ও পানি প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত।
হাতে দৃশ্যমান ময়লা থাকলে
আপনার হাতে দৃশ্যমান ময়লা থাকলে তার ওপর যদি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন তাহলে সেটি আরও বেশি ময়লা ও কর্দমাক্ত হওয়া ছাড়া আর কিছুই করবে না। কারণ অ্যালকোহলের তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ময়লা দূর করতে পারে না এমনকি এই অবস্থায় সেটি খুব কম সংখ্যক জীবাণু মারতে পারে।
সুতরাং হাতের ময়লা দূর করতে অবশ্যই আপনাকে সাবান ও পানি দিয়েই হাত ধুতে হবে। যেমন খেলাধুলা, বাগানে কাজ করা বা এসব ধরনের কোনো কাজ করার পর হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উচিত নয়।
আপনার সামনে কেউ হাঁচি দিলে​
সত্যি করে বলুনতো কেউ আপনার সামনে হাঁচি দিলে কতবার হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেছেন? হয়তো অনেক বার, ঠিক নয় কি? আপনার সামনে কেউ যদি হাঁচি-কাঁশি দেয় তাহলে ড্রপলেটের মাধ্যমে নিঃশ্বাসের সঙ্গে আপনি সেই জীবাণু গ্রহণ করতে পারেন। এখানে সংক্রমিত হওয়ার জন্য শুধুমাত্র হাত দায়ী নয়।
কোনো কিছু স্পর্শ না করলে
আপনি যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন তাহলে তা ভালোর পরিবর্তে বিপদ ডেকে আনবে। কারণ কোনো কিছু স্পর্শ না করলে বা পরিস্কার হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে অ্যালকোহল প্রতিরোধী জীবাণু তৈরি হবে এবং পরবর্তীতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারে কোনো কাজ করবে না।
মাত্র ৫ মিনিট আগে স্যানিটাইজার ব্যবহার করেছেন
মাত্র ৫ মিনিট আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেছেন। আবারও তা ব্যবহার করার জন্য হাতে নিয়েছেন। তাহলে চরম ভুল করছেন আপনি। কারণ, ঘন ঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালাপড়া এবং হাত শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য বারবার ব্যবহার না করে একবার ভালো করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উত্তম। এজন্য পরিমাণমতো স্যানিটাইজার নিয়ে ২০ সেকেন্ড হাতের সব পাশে ভালো করে ঘষে ঘষে লাগিয়ে নিন, যতক্ষণ এটি না শুকায় ততক্ষন ঘষতে থাকুন।
বাচ্চাদের পাশে থাকলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন
হ্যান্ড স্যানিটাইজার বাচ্চাদের উপর ব্যবহার করা নিরাপদ কারণ স্যানিটাইজারের ফলে শরীরে অ্যালকোহলের কোনো উল্লেখযোগ্য শোষণ হয় না। তবে অ্যালকোহলভিত্তিক স্যানিটাইজারের ইনজেশন বা শ্বাস গ্রহণের ফলে বিষক্রিয়া হতে পারে। ২০১১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত, মার্কিন বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলি শিশুদের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এক্সপোজার সম্পর্কে প্রায় ৮৫ হাজার কল পেয়েছিল। এ ধরনের হ্যান্ড স্যানিটাইজার কখনো সহজ জায়গাগুলোতে রাখা উচিত নয়।
ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে গেলে
ফ্লুতে আক্রান্ত হলে নিয়ম মেনে হাত পরিস্কার ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। তবে এর মানে এই নয় যে আপনি বাইরে ঘোরাফেরা করতে পারবেন। এটি সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় তবে ফ্লুতে আক্রান্ত হলে আপনাকে বাড়িতেই থাকতে হবে।
বাংলাদেশে একদিন বয়সী শিশু’র শরীরে করোনা

বাংলাদেশে একদিন বয়সী শিশু’র শরীরে করোনা

চট্টগ্রামে এবার একদিন বয়সী শিশুর শরীরে শনাক্ত হয়েছে করোনা ভাইরাস। জন্মের পর পরই ওই শিশুর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। তার তিন দিন পর দেয়া রিপোর্টে শিশুটিকে পজেটিভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই নবজাতকের মা’ও আগে থেকে করোনা পজেটিভ ছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে ওই শিশুর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

নবজাতক এবং তার মা দু’জনই বর্তমানে চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দু’জনরই শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের ১০ মাস বয়সী এক শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। অবশ্য পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে শিশুটি বাড়ি ফিরে গিয়েছিল।

চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগে থেকে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী করোনা পজেটিভ থাকায় তার ডেলিভারির ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা নেয়া হয়েছিল। ২০ মে তার নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ রিপোর্ট আসার পর পরই তাকে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছিল। তিনি তার বাসা থেকেই করোনার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু ২৪ মে হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ওই নারী পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই শিশুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ২৮ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাব থেকে দেয়া রিপোর্টে শিশুটিকে পজেটিভ হিসেবে উল্লেখ করে। এখন পর্যন্ত এই শিশুটিই সবচেয়ে কম বয়সী করোনা রোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে।