অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০

৫ সমুদ্র বন্দরের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশ

৫ সমুদ্র বন্দরের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশ



স্বাধীনতার আগে থেকেই বাংলাদেশে সমুদ্র বন্দরের সংখ্যা ছিল মাত্র দুইটি। চট্টগ্রাম এবং মংলা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নির্মাণাধীন রয়েছে আরো তিনটি সমুদ্রবন্দর। সময় সংবাদের পাঠকদের জন্য আজ তুলে ধরা হলো বাংলাদেশের বর্তমান ও নির্মাণাধীন সমুদ্রবন্দরগুলোর বিস্তারিত তথ্য। 

১. চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর:

১৮৮৭ সালে চালু হওয়া বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির ৯০% এই বন্দর ব্যবহার করেই হয়ে থাকে। বিশ্বের সব থেকে ব্যস্ততম বন্দরের তালিকাগুলো লয়েডস প্রতি বছর প্রকাশ করে। ২০১৯ সালে এই বন্দরটিকে বিশ্বের ৬৪তম ব্যস্ত বন্দরের স্বীকৃতি দিয়েছে তারা। ৯.৫ মিটার ড্রাফটের ছোট জাহাজ ভিড়তে পারে এই বন্দরে। ১০ হাজার টনের বেশি জাহাজ ভিড়ানোর ক্ষমতা নেই বন্দরটির। এজন্য মাদার ভেসেল এখানে ভিড়তে পারে না। স্বাধীনতার এত বছর পার হলেও কিছু গ্যানট্রি ক্রেন ছাড়া আহামরি কোন উন্নয়ন হয়নি এই বন্দরে। বন্দরটি বর্ধিত টার্মিনাল করবার স্থান ও নেই। তবে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের এক্সটেনশন হিসাবে বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে।


সমুদ্রের মোহনায় জেগে উঠা চরে প্রায় ১২০০ একরের বেশি জমিতে বে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। এতে খরচ হবে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এখানে বন্দর চ্যানেলের গভীরতা এমন হবে যাতে প্রায় ১৩ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারে। ফলে বড় মাদার ভেসেল গুলি ভিড়তে আর অসুবিধা হবে না। ৫০০০ কন্টেইনার বাহী জাহাজ সহজেই ভিড়তে পারবে। সেই সাথে আনলোড করার সময় কমে হবে ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা। গতি আসবে বন্দরের কার্যক্রমে। এখানে মোট তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। ১৫০০ মিটার বা ১.৫ কিমি এর মাল্টিপারপাস টার্মিনাল, ১২২৫ মিটারের কন্টেইনার টার্মিনাল ১, এবং ৮৩০ মিটারের কন্টেইনার টার্মিনাল-২।

২. মংলা সমুদ্র বন্দর:

পাটকেন্দ্রিক গড়ে উঠা শত শত শিল্প প্রতিষ্ঠান ছিল খুলনায়। মংলা ছিল জমজমাট একটি বন্দর। কিন্তু কালক্রমে পাটকলসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবার কারণে মংলা বন্দর তার গুরুত্ব হারিয়েছে। বন্দর চ্যানেলে বেশ কিছু জাহাজ ডুবে যাওয়া এবং গভীরতা কমে যাবার ফলে এখন মংলায় ৭.৫ মিটারে বেশি ড্রাফটের কোন জাহাজ ভিড়তে পারেনা। এক প্রকার অচল বলা চলে এই বন্দর। এই বন্দরের করুণ অবস্থার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। পদ্মার উপর কোন সেতু না থাকায় এই বন্দর এক প্রকার রাজধানী হতে বিচ্ছিন্ন। তবে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে এবং সরাসরি রেল সংযোগ নিয়ে চলমান প্রকল্প শেষ হলে এই বন্দর কিছুটা হলেও তার গুরুত্ব ফিরে পাবে। মংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন করার অংশ হিসাবেই রেল সংযোগ প্রকল্প এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের সব থেকে বড় রেলসেতু রূপসা রেলসেতুর নির্মাণ কাজ অনেক এগিয়েছে। সেই সাথে ভবিষ্যতে এই বন্দর ব্যবহার করবে নেপাল, ভারত। তখন এই বন্দরের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।



৩. পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর:

পটুয়াখালীর পায়রা নদীর মোহনায় রাবনাবাদ চ্যানেলে পায়রা বন্দরের অবস্থান। একটি দ্বীপে বন্দর করবার থেকে মূল ভূখণ্ডের সাথে বন্দর করলে বন্দরকেন্দ্রিক অন্যান্য স্থাপনা করবার সুযোগ অনেক বেশি। সেই হিসাবে পায়রা বন্দর একটি অনন্য পদক্ষেপ। ব্রিটিশ ফার্ম এইচ আর ওয়ালিংটন এন্ড কনসোর্টিয়াম এর মূল্যায়ন অনুসারে বাংলাদেশে ১৪.৫ মিটার ড্রাফটের একটি সমুদ্র বন্দর করা খুব জরুরি। অবস্থান বিবেচনায় সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সমুদ্র উপকূল থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সমুদ্র উপকূলের এই জেলাগুলির অবদান সামান্য বলা চলে। অর্থাৎ সমুদ্রের সম্ভাবনা হিসাবে বাংলাদেশের মোট জিডিপির অর্ধেক অন্তত এই জেলাগুলি থেকে আসার কথা থাকলেও অবকাঠামোগত অপ্রতুলতার জন্য সমুদ্রের সুবিধাকে আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। যেহেতু দক্ষিণাঞ্চলের ঠিক মাঝ বরাবর পায়রা বন্দরের অবস্থান সেক্ষেত্রে বন্দরকে ঘিরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন শক্তি সঞ্চার হবে সেটা সহজেই বোঝা যায়।

পায়রা বন্দরের প্রাথমিক, মধ্যম এবং চূড়ান্ত পর্বে এটি বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ বন্দর হয়ে উঠবে। প্রকল্পটি প্রায় ৭ হাজার একর জমির উপর। পায়রা বন্দরের প্রবেশ চ্যানেলে নদীর প্রশস্ততা প্রায় ৪ কিমি। আর বন্দর থেকে সমুদ্রের দিকে টানা ১১ কিমি দীর্ঘ টার্মিনাল করা হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর টার্মিনালে মাত্র ১৫০০ কন্টেইনার রাখবার মত ব্যবস্থা আছে। পায়রার ক্ষেত্রে টার্মিনালে প্রায় ৭৫০০০ কন্টেইনার রাখা যাবে। ১ লক্ষ বর্গ ফিটের ওয়ারহাউজের কাজ প্রাথমিক ভাবেই শেষ করা হবে। গভীরতার বিচারে পায়রা বন্দরে প্রায় ১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর ব্যবস্থা থাকবে। যেখানে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ ৯.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারে। আর ১২ মিটারের বেশি ড্রাফট থাকলে সেটাকে গভীর সমুদ্র বন্দর বলা যায়।

উল্লেখ্য পাকিস্তানের গোয়াধর বন্দরের গভীরতাও ১৪ মিটার। ড্রেজিং করে সেটাকে ১৮ মিটার করা হবে। পায়রাকেও সেরকম গভীরতায় চাইলেই নেয়া সম্ভব হবে। মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত হবার জন্য এটিকে ঘিরে বিশাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন করা সম্ভব হবে। বন্দরের মোট প্রকল্পকে ১৯ টি ভাগে ভাগ করে কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রায় ১২ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলারের মত বিনিয়োগ হবে। সেই সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন হাব করা হচ্ছে। থাকছে এলএনজি টার্মিনাল।

এই বন্দরের চাহিদার প্রধান গ্রাহক হবে বন্দর ঘিরে গড়ে তোলা বিদ্যুৎ হাব এবং ১০,০০০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেই সাথে জাহাজ নির্মাণের জন্য আলাদা অঞ্চল সৃষ্টি করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু চালু হলে এবং ঢাকা থেকে পায়রা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ শেষ হলে সহজেই স্বল্প সময়ে পণ্য ঢাকাসহ সারাদেশে পৌঁছানো সম্ভব হবে। সরাসরি সড়ক যোগাযোগের জন্য লেবুখালিতে পায়রা নদীর উপর সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে যেটি কয়েক বছরের ভেতরেই ঢাকার সাথে পায়রার সরাসরি সংযোগ ঘটাবে। পিছিয়ে পড়া দক্ষিণাঞ্চলের জিডিপি বৃদ্ধিতে এই বন্দর বড় রকমের ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে পায়রাকে ঘিরে গড়ে উঠা কয়লা ভিত্তিক দেশের সব থেকে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ শেষ হয়েছে।

৪. মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর:

বাংলাদেশের সব থেকে গভীরতম সমুদ্রবন্দর হচ্ছে মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর। মহেশখালী দ্বীপের আয়তন প্রায় ১৪ বর্গকিলোমিটার। সেই সাথে মাতারবাড়ি চ্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪.৫ কিমি। ভাটার সময় গভীরতা থাকে প্রায় ১৪ মিটার। আর জোয়ারের সময় প্রাকৃতিক ভাবেই গভীরতা হয় প্রায় ১৮.৫ মিটার। যদি ড্রেজিং করা হয় তবে গভীরতাকে আরো বাড়ানো সম্ভব।

মাতারবাড়ি এর লোকেশন নির্ধারণ এবং কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ-কেন্দ্র নির্মাণ আর এসবের নিমিত্তে বন্দর করবার কাজ পেয়েছে জাপান। শুরু থেকেই প্রকল্পটি নিয়ে খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়নি। খরচ ছিল ৩৬ হাজার কোটি টাকা যার ভেতর জাপান অর্থায়ন করবে ২৯ হাজার কোটি টাকা। আপাতত প্রায় ৪৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করা হবে। কয়লা নামানোর জন্য বন্দর সুবিধা এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত।

মাতারবাড়ি বন্দরের কাজ শেষ হলে এই দ্বীপে ২৪০০০ একরের বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিশাল বিনিয়োগ আসবে। ইতোমধ্যে চীন সেখানে ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। জাপান তাদের বিশাল বিনিয়োগ এখানে আনছে। এই বন্দরকে কক্সবাজারের সাথে যুক্ত করার জন্য রেল ও সড়ক সংযোগ ঘটানো হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্প কারখানা এবং দেশের সবথেকে বড় বিদ্যুৎ হাবের জন্য কয়লা বহন এই বন্দরের প্রধান কাজ হবে। এছাড়া এলএনজি এবং অন্যান্য কার্গো বহনেও ব্যাবহার হবে এই বন্দর।

৫. মিরসরাই ইকোনমিক জোন সংলগ্ন প্রথম বেসরকারি সমুদ্রবন্দর:

জাপানের জেডিয়াই, সজিত কর্পোরেশন এবং আমাদের দেশের এনার্জিপ্যাক জোটবদ্ধ হয়ে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে উপমহাদেশের সব থেকে বড় ইকোনমিক জোন মিরসরাই সংলগ্ন একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করবে। জাইকা এখানে ২ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করার জন্য রাজি হয়েছে। আইএফসি অর্থায়ন করবে ১০০ মিলিয়ন ডলার।

সারাবিশ্বে মিরসরাই ইকোনমিক জোনের মত এত আকর্ষণীয় ইকোনমিক জোন খুব কম আছে। ইকোনমিক জোন করার প্রকল্প নেয়ার পর এটি এখন কর্মমুখর একটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। ৩০ হাজার একরের উপর উপমহাদেশের সব থেকে বড় ইকোনমিক জোনের সাথেই মিশে আছে সমুদ্র। এই ইকোনমিক জোনের চাহিদা বিবেচনায় আরো ১৩,০০০ একর জমি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি হলে অর্থনৈতিক অঞ্চলের আয়তন হবে ৪৩,০০০ একর। ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ে এখান থেকে মাত্র ১৮ কিমি দূরে। বিমান বন্দর খুব কাছেই। সেই সাথে চট্টগ্রাম বন্দর ও খুব কাছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের উপর এই বিশাল অঞ্চলে গড়ে উঠা শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাপ যেন না পড়ে সে কারণেই সজিত কর্পোরেশন এখানে একটি সমুদ্র বন্দর করবে যেটার কাজ মূলত শুধু এখানে বিনিয়োগ করা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্য আমদানি এবং রপ্তানি করা। এর অর্থ দাঁড়ায় এই ইকোনমিক জোনের নিজস্ব একটি ডেডিকেটেড সমুদ্রবন্দর থাকবে। ৪০০০০ টনের মাদার ভেসেল ভিড়তে পারবে এখানে। যদিও বন্দরের আকার ছোট হবে তবুও এত বিশাল বিশাল জাহাজ ভিড়তে পারার সুবিধাযুক্ত ইকোনমিক জোন বিশ্বের কয়টি দেশে আছে?

একই কাজ কিন্তু মাতারবাড়িতেও হচ্ছে। ২৪০০০ একর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাথেই যুক্ত মাতারবাড়ি বন্দর।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে নতুন করে চেনাতে এই দুটি বন্দর এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সৌজন্য: ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম।

সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ (ভিডিও)

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ (ভিডিও)





মেট্রো রেল স্থাপনের আরো দুটি প্রকল্পর জন্য আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ থাকছে। এ দুটি প্রকল্পের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকায বসবাসরত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় উড়াল ও পাতালসহ ছয়টি মেট্রোরেল রুট নির্মাণ করা হবে।  উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণাধীন মেট্রো রুট-৬ এর চলমান কাজের শতকরা ৪৫ ভাগ শেষ হয়েছে। 


সম্পতি কাজের গতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে এ রুটে ১০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট এবং ১ কিলোমিটার রেল লাইন স্থাপন করা হয়েছে।।  আগামী অর্থবছরে নির্মাণ কাজ শুরু হবে আরো দুটির।  আজ আপনাদের কাছে তুলে ধরছি এমআরটি লাইন ৫ এর বিস্তারিত। 



গত ১০ জুন ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল রুটের বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণকাজ তদারকির জন্য পরামর্শক নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয় । এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি ও  ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

এমআরটি লাইন ৫ এর রুট হবে দুইটি।  একটি হলো এমআরটি লাইন ৫ নর্দান রুট যা হেমায়েত পুর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ভাটারায়।  এটি উড়াল পাতাল সমন্বয়ে নির্মাণ করা হবে।  ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই মেট্রো রেলের মাটির নিচ দিয়ে হবে ১৩.৫০ কিলোমিটার এবং মাটির উপরে এমআরটি লাইন ৬ এর মতো হবে ৬.৫০ কিলোমিটার।  

মোট স্টেশন হবে ১৪ টি যার ৯ টি হবে মাটির নিচে  অর্থাৎ পাতালে এবং ৫ টি হবে উড়াল মানে মাটির উপরে। 

এমআরটি লাইন ৫ নর্দার্ন অংশের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এমআরটি ৫ নর্দান রুটটি নির্মাণে প্রায় ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি কোটি টাকা ব্যয় হবে । এরমধ্যে জাপান সরকারের অর্থায়ন করবে  প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা। এই প্রকল্পটি ২০২৮ সালে শেষ হবার কথা রয়েছে।
 

এমআরটি লাইন ৫ এর দ্বিতীয় রুট টি হলো এমআরটি লাইন ৫ সাউদার্ন। এই রুট টি গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত




রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০

বাজেটের পর এখনো অপরিবর্তিত পণ্যের দাম

বাজেটের পর এখনো অপরিবর্তিত পণ্যের দাম

বাজেট উপস্থাপনের পরই কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায় সাথে সাথে। তবে এবার এর ব্যতিক্রম। বিক্রেতারা বলছেন, করোনা সংকটের কারণে বিদেশ থেকে পণ্য আসা প্রায় বন্ধ, এ কারণে এখনো বিক্রি হচ্ছে আগে আনা পণ্য। অর্থনীতিবিদের মত, এবার কড়া নজরদারি ও চাহিদা কম থাকায় বাজাটে কোন প্রভাব পড়েনি। 


করোনা মহামারির মধ্যে ঘোষিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু পণ্য ও আমদানিতে কর ছাড় ও কিছু পণ্যের কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এখনো এর প্রভাব দেখা যায়নি বাজারে।

কোভিডকালে কর কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা পণ্যের। সে হিসেবে দাম কমবে করোনাভাইরাস টেস্ট কিট, হ্যান্ড গ্লাবস, মাস্কের। ওষুধ তৈরির দেশিয় কাঁচামালের দাম কমে যাওয়ায় কমবে ওষুধের দামও। আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাবে দাম কমার তালিকায় আছে স্বর্ণও।

তবে বিক্রেতারা বলছেন, এখনো এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই।


এদিকে, অন্যান্য বছর বাজেট উপস্থাপনের পরই বাজারে বেড়ে যায় আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা পণ্যের দাম। তবে এবার কর আরোপের খবরেও বাড়েনি আমদানি করা তরল দুধ, দুগ্ধজাতীয় পণ্য, মধু ও চকলেটের দাম।

অর্থনীতিবিদের মত, করোনার কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে প্রভাব পড়েনি।

অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ বলেন, করোনার প্রভাবে এখন মানুষের হাতে আয় নাই, এবং চাহিদার একটা সংকট রয়েছে। দাম আগেই বাড়িয়ে দেয়ার যে প্রবণতা তা এবার দেখা যায় নাই। 


কোভিড পরিস্থিতির কারণে সরকারের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ে কড়াকড়িও দাম নিয়ন্ত্রণে থাকার আরেকটি বড় কারণ বলে মনে করেন তিনি। 

সোমবার, ১ জুন, ২০২০

একনেকে উঠছে ১৯ হাজার কোটি টাকার ৪ প্রকল্প

একনেকে উঠছে ১৯ হাজার কোটি টাকার ৪ প্রকল্প



চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও দেশ থেকে করোনাভাইরাস নির্মূলে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে যাচ্ছে সরকার। এ উদ্দেশে চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। শিগগিরই একনেকে উঠছে এ চার প্রকল্প।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যে চারটি প্রকল্প একনেকে উঠতে যাচ্ছে তার মধ্যে দুটি সরাসরি করোনা রোগীর চিকিৎসায় ভ‚মিকা রাখবে। অন্য দুটি প্রকল্প দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। ফলে চারটি প্রকল্পই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে করোনা সঙ্কট মোকাবিলায় ভুমিকা রাখবে। প্রকল্প চারটির মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ১৮ হাজার ৭২০ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন সাংবাদিকদের জানান, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে আগামী মঙ্গলবার প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হবে। গণভবন থেকে একনেকের ভার্চুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস বিপর্যয়ে দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যখাত।

একদিকে নিম্ন আয়ের মানুষ ঘরবন্দি, অন্যদিকে হাসপাতালে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। তাই এ থেকে মুক্তি পেতে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চারটি প্রকল্প অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যেও একনেকে ওঠার বিশেষ অনুমোদন পেয়েছে প্রকল্পগুলো। সভায় করোনা সঙ্কট মোকাবিলা সংক্রান্ত প্রকল্প ছাড়াও অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগেরও বেশকিছু প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হবে। আজ একনেক বৈঠকে প্রকল্প উপস্থাপনের জন্য তালিকা চ‚ড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে, দীর্ঘ আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর এ একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর ভার্চুয়াল একনেক সভা এটিই হবে প্রথম। আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শুরু হবে এ সভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গণভবন থেকে সভায় অংশ নেবেন। বাকিরা সবাই সভায় অংশ নেবেন এনইসি সম্মেলন কক্ষ থেকে।
এবারো কোটি টাকা লিচু বিক্রির আশা

এবারো কোটি টাকা লিচু বিক্রির আশা


জ্যৈষ্ঠ মাসের রসালো পাকা লিচু গাছে গাছে ঝুলছে। লিচু বাগানগুলো এখন মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। চারিদিকে শুধু পাকা লিচু আর লিচুর সমাহার।

এ অঞ্চলে উৎপাদিত লিচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হলেও চলতি মৌসুমে করোনাভাইরাসের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের বাগানের লিচু শুধু সিলেট অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে। লিচুর ভালো ফলন হওয়ায় চাষিরা আশাবাদী চলতি মৌসুমেও তারা দেড় কোটি টাকার লিচু বিক্রি করতে পারবেন।

সুনামগঞ্জের ছাতকের নোয়ারাই ইউপির মানিকপুর, গোদাবাড়ী, বড়্গল্লা, চানপুর, রাজারগাও কচুদাইড় গ্রামে রয়েছে রসালো ফল লিচুর বাগান। দোয়ারাবাজার উপজেলার লামাসানীয়া গ্রামেও লিচু বাগানের বিস্তৃতি ঘটেছে। চলতি বছরেও লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

তবে ছাতকের মানিকপুর গ্রামে প্রথমে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ শুরু হয়। আর এখান থেকেই আশপাশের গ্রামের মানুষ লিচু চাষে আগ্রহী হয়ে পড়েন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, শত বছর আগে গৌরীপুরের জমিদারের কাছারিবাড়ী ছিল মানিকপুর গ্রামে। বর্তমানে ওই বাড়িটিতে মানিকপুর জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। জমিদারের নায়েব হরিপদ রায় ও শান্তিপদ রায় কাছারি বাড়িতে কয়েকটি লিচু গাছ লাগিয়েছিলেন। বিশাল আকারের  লিচু গাছগুলো এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কাছারি বাড়িতে। কাছারি বাড়ির এসব লিচু গাছ থেকে গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে ২/১ টি করে গাছ লাগিয়েছিলেন গ্রামের লোকজন।

এ গাছগুলোতে লিচুর ভালো ফলন হওয়ায় এবং ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় লিচু চাষে গ্রামের অনেকেই আগ্রহী হয়ে পড়েন। বাণিজ্যিকভাবে কয়েকজন লিচু উৎপাদন শুরু করেন।

২০১৪ সালে বাগান মালিকরা কোটি টাকার লিচু বিক্রি করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এ থেকেই লিচুর গ্রাম হিসেবে মানিকপুর পরিচিতি লাভ করে। পর্যায়ক্রমে আশ-পাশের গ্রামগুলোতেও বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ শুরু হয়।

মানিকপুর গ্রামের লিচু চাষি মতিউর রহমান, রবি মিয়া, আরব আলী, শুকুর আলী, আবু তাহের রইছ মিয়া, আলী হোসেন, জামাল উদ্দিন, বাদল মিয়া, গোদাবাড়ী গ্রামের বাচ্চু মিয়া, রুস্তুম আলী, আনর মিয়া, ফরিদ মিয়া।

মানিকপুর গ্রামের লিচু চাষি আবু তাহের রইছ মিয়া জানান, বাড়ির আঙ্গিনায় রোপণকৃত লিচু গাছের লিচু বিক্রি করে তাদের কিছুটা আয় হলে তারা লিচুর বাগান করতে আগ্রহী হন। লিচুর ভালো ফলনের জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নেন বলে তিনি। জমিদারের কাছারি বাড়ির লিচু গাছ থেকেই চারা সংগ্রহ করে লিচুর বাগান করেছেন। প্রতিবছরই এখানে লিচুর ভালো ফলন হচ্ছে। কয়েকটি গ্রামের বাগান মালিকরা লিচু বিক্রি করে প্রতি মৌসুমে প্রায় দেড় কোটি টাকা আয় করেন।

গোদাবাড়ী গ্রামের আনর মিয়াসহ অনেকেই জানান, বাগানের লিচু চামচিকা পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে তাদের প্রচুর কষ্ট করতে হয়। বিদ্যুতায়নের আগে বাগানের অর্ধেক লিচু চামচিকা, বাদুড় ও পোকামাকড় নষ্ট করে ফেলতো। দু বছর বিদ্যুৎ আসার কারণে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যাবহার করে পোকামাকড়, চামচিকা, বাদুড়, কটকটি ইত্যাদি প্রাণি তাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।

ফরিদ মিয়া জানান, ছাতকের বাগান গুলোর লিচু সুমিষ্ট হলেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের লিচুর চেয়ে আকারে অনেকটা ছোট। কয়েকবছর আগে স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল এখানের লিচু চাষিদের উন্নত জাতের লিচুর চারা দিয়েছিলেন। এসব চারা থেকে এখানে বড় আকারের লিচুও ফলন হচ্ছে।

লিচু চাষি জামাল উদ্দিন জানান, বাগানে চাষকৃত লিচু বাজারজাত করতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। রাজারগাঁও থেকে চৌমুহনী বাজার রাস্তার একটি ব্রিজ ধসে পড়ায় এখানে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। লিচু নিয়ে দোয়ারা উপজেলার বালিউরা বাজার হয়ে তাদের ছাতক শহরে আসতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়।

দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুল হামিদ জানান, লিচু চাষে মানুষকে আগ্রহী করতে অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এখানের অধিকাংশ লিচু চাষিরা তার পরামর্শে লিচু বাগান করেছেন। এ অঞ্চলের মাটি লিচু চাষের উপযোগী বিধায় তিনি সবসময় লিচু চাষে উন্নত প্রযুক্তি ব্যাবহার ও লিচু চাষে চাষীদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানান, এ উপজেলায় পূর্ব থেকেই লিচুর ফলন ভাল হত। এবারও লিচুর ফলন ভাল হয়েছে। এছাড়াও এখান উন্নতজাতের লিচুর চাষ হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি বিভাগ লিচু চাষিদের সবধরনের সহযোগিতা ও পরার্মশ দিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

রোববার থেকে পুরোদমে খুলছে ব্যাংক-শেয়ারবাজার

রোববার থেকে পুরোদমে খুলছে ব্যাংক-শেয়ারবাজার

দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা ও শেয়ারবাজার আবারো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে। রোববার (৩১ মে) থেকে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার চালু হবে।
ব্যাংকে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে করোনার কারণে মাঝারি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। তবে শেয়ারবাজারের লেনদেন সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে চলবে একটানা দেড়টা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

প্রায় দুই মাস পর পূর্ণাঙ্গরূপে ফিরতে যাচ্ছে দেশের ব্যাংক খাত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, গণ-পরিবহন চলাচল সীমিত থাকায় প্রয়োজনে ব্যাংকগুলোকে কর্মীদের যাতায়াতে পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, কর্মকর্তা, সন্তানসম্ভবা গ্রাহক ও কর্মকর্তাকে ব্যাংকে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর (পোর্ট ও কাস্টমস) এলাকায় ব্যাংকের শাখা ও বুথ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে।

সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংক সেবা চালু রাখার নির্দেশ দেয়। তবে তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। করোনার মধ্যে কর্মকর্তাদের অফিসে যেতে উৎসাহ বাড়াতে চালু করা হয় বিশেষ ভাতা ও বিমা-সুবিধা। এখন অবশ্য সেই সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনাপত্তির পর আগামী রোববার থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরু হয়ে একটানা দেড়টা পর্যন্ত চলবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ডিএসইর মতো সিএসইতেও রোববার থেকে লেনদেন চালু করা হবে।

মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

করোনা ঝুঁকিতেও চলছে রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ

করোনা ঝুঁকিতেও চলছে রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ

করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক ঝুঁকির মধ্যেও পুরোদমে চলছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুরের নির্মাণকাজ।


কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক সেখানে কর্মরত রয়েছেন। এ বছরের ডিসেম্বর নাগাদ প্রথম ইউনিটের রি-অ্যাক্টর বা চুল্লি স্থাপনের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব বলেও দাবি নীতিনির্ধারকদের।

তবে নির্মাণকাজে না পেছালেও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির ক্ষেত্রে সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

কভিড-১৯ এর আতঙ্কে যখন স্থবির পৃথিবীর বেশিরভাগ কর্মযজ্ঞ, তখন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এভাবেই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চালানো হচ্ছে প্ল্যান্টের নির্মাণ কাজ।


মহামারির অচলাবস্থার মধ্যেও প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রীসহ বিদেশ থেকে আমদানি করা যন্ত্রাংশ প্রতিনিয়ত নিয়ে আসা হচ্ছে পাবনার রূপপুরে। জানানো হয় এরই মধ্যে রাশিয়ায় প্রস্তুত হয়েছে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল। যদিও, ঝুঁকি এড়িয়ে করোনা পরিস্থিতিতে কাজ চলমান রাখার বিষয়ে আগেই জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব পরমাণু সংস্থা রোসাটম।

দেশি-বিদেশি প্রায় ৮ হাজার শ্রমিকের প্রত্যক্ষ কর্মতৎপরতায় প্রথম রিঅ্যাক্টর ভবনের ৩৪ মিটার পর্যন্ত নির্মাণ বেশ এগিয়েছে। ব্যয় বাড়ার শঙ্কায় কাজ স্থগিতের কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি সরকারের সংশ্লিষ্টদের।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, 'সময় একটা বড় ব্যাপার। সময়ে শেষ করতে না পারলে আমরা লসে পড়ে যাব। আমাদের অনেক মেশিন চলে আসছে। সেগুলোকে বন্দর থেকে ছাড়ানো, আবার নদী পথে টেনে আনা। আসলে আমরা একটি কঠিন সিচুয়েশনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।'


নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শোকত আকবর বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রথম ইউনিটের রি-অ্যাক্টর বা চুল্লি স্থাপন করা। আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ চলমান আছে।'

নির্মাণে পিছিয়ে না গেলেও, বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় প্ল্যান্টের কমিশনিং পর্যায়ে কাজ করা কর্মীদের প্রশিক্ষণ আটকে গেছে বলে জানিয়েছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শোকত আকবর এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

খাতা-কলমে স্বপ্নের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ এগিয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বিপুল অঙ্কের আর্থিক ঋণে নির্মিতব্য দেশের বৃহৎ এই প্রকল্পটি ২০২৩ সাল নাগাদ চালু করার বিষয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ ও রাশিয়ার প্রকৌশলীরা।


সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

করোনাকালে বন্দরে ৩ লাখ ১৯ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং

করোনাকালে বন্দরে ৩ লাখ ১৯ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং



করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি ছুটির ৫৬ দিনে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজার কনটেইনার (টিইইউ'স)। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন বিভাগ গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে ২০ মে পর্যন্ত হিসাব করে এ তথ্য জানিয়েছে।
একই সময়ে বন্দরে ১ কোটি ৩৭ লাখ ২৮ হাজার ৬৪২ মেট্রিকটন পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে পেঁয়াজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৮৭ হাজার ৩৯৭ মেট্রিকটন, আদা ৮ হাজার ২৭৫ মেট্রিকটন এবং রসুন ৬ হাজার ৬৫০ মেট্রিকটন।
৫৬ দিনে বন্দরে খাদ্যপণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে ২২ লাখ ৯৮ হাজার ৪২৪ মেট্রিকটন। এ ছাড়াও রমজান উপলক্ষে আমদানি করা ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল, খেজুর ইত্যাদি হ্যান্ডলিং হয়েছে ৮৬ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন।
বন্দরের একজন কর্মকর্তা বলেন, বন্দরের কর্মীরা করোনার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে জাতির ক্রান্তিকালে আমদানি, রফতানি ও সাপ্লাই চেন স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রেখেছেন।
এর ফলে এবার রমজানে অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্যের সংকট তৈরি হয়নি। ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন কর্মী মারা গেছেন। কয়েকজনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। যদি কনটেইনার জট তৈরি না হতো তাহলে কনটেইনার হ্যান্ডলিং আরও বাড়তো।
বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, বন্দরের পরিবহন বিভাগ করোনাকালীন হ্যান্ডলিংয়ের হিসাব তৈরি করেছে। এ সময় ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল ছিলো।
৯৭.৫ শতাংশ কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়েছে: বিজিএমইএ

৯৭.৫ শতাংশ কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়েছে: বিজিএমইএ



বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র সদস্যভুক্ত ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ কারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিজিএমইএ'র সদস্য ১ হাজার ৯২৬টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৮৭৮টি কারখানার শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়েছে।
৪৮টি কারখানার শ্রমিকদের এখনও বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হয়নি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধে বিজিএমইএ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে এ বছর প্রায় ১৯ লাখ শ্রমিক মোবাইল সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের বেতন পেয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়
রপ্তানি আয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে পাট খাত

রপ্তানি আয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে পাট খাত



চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে ৭৯ কোটি ১৩ লাখ ডলার আয় হয়েছে। টাকার অংকে ৬ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। যা গত বছর একই সময়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। ফলে রপ্তানি আয়ে দেশে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে পাট খাত।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাট খাতে বিশেষ করে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে আয় ছিল ৬ হাজার ৪১৮ কোটি ৭২ টাকা। যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ২৯০ কোটি ৪০ লাখ টাকায়। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এটি আরও বেড়ে ৭ হাজার ৬৮৩ কোটি ৩২ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। অন্যদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮ হাজার ৯৬ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আয় হয় ৬ হাজার ৭৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। এই সময়ে মূলত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসতে পেরেছে পাট খাত।
পাট অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পাট খাতের রপ্তানি আয়ে এখন সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে পাটজাত পণ্য। একসময় কাঁচা পাটের অবদান খুব ভালো হলেও ক্রমেই তা অবনতি হচ্ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক কাঁচা পাটের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। সেখানে পাটজাত পণ্য বেশ ভালো করছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কাঁচা পাট উৎপাদন ছিল ৭৫ লাখ ৫ হাজার বেল। যা পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে ছিল যথাক্রমে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৮৫ লাখ বেল, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৮৮ লাখ ৮৯ হাজার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯২ লাখ বেল এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ৭৩ লাখ ১৫ হাজার বেল।
অন্যদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ১ হাজার বেল এবং আয় ছিল ৮১৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১১ লাখ ৭৪ হাজার বেল বিক্রি করে আয় ছিল ১ হাজার ৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পরের বছর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের রপ্তানি হয়েছিল ১৬ লাখ ৩৯ হাজার বেল। যা থেকে আয় আসে ১ হাজার ৩৪২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৩ লাখ ৭৯ হাজার বেল বিক্রি করে আয় হয়েছিল ১ হাজার ২৯৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ লাখ ২৫ হাজার বেল রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৮৫৯ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৭৫ হাজার বেল রপ্তানি হয়েছে।
এছাড়া ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাটজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় ছিল ৫ হাজার ৬০২ কোটি টাকা, পরের বছর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬ হাজার ৪৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬ হাজার ৮০১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ২২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
এদিকে কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি কালীন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পাট খাতের এ অর্জনের বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
সভায় বস্ত্র ও পাট সচিব লোকমান হোসেন মিয়া সভাপতিত্ব করেন।
সভায় জানানো হয়, সরকার মানসম্মত পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে পাট অধিদপ্তরের আওতায় ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মেয়াদে বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি দেশের ৪৬টি জেলার ২৩০টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।