সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১

পদ্মা সেতুর পিচঢালাই অক্টোবরে: সেতুমন্ত্রী

পদ্মা সেতুর পিচঢালাই অক্টোবরে: সেতুমন্ত্রী

 

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৯৪ দশমিক দুই পাঁচ ভাগ। এ বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে পিচঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে।


সোমবার (২৩ আগস্ট) মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপকমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতির পিতার হত্যাকাণ্ড, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক জাতীয় শোক দিবসের ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত ও স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে আজ সকালে রোডওয়ে স্ল্যাবের সবকয়টি স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে পদ্মার দুই তীরের রাস্তার সংযোগ স্থাপিত হলো।

তিনি বলেন, এ বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে পিচঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে। এ পর্যন্ত পদ্মা সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৯৪ দশমিক দুই পাঁচ ভাগ।

ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. সুলতানা শফির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিকসহ অন্যান্য নেতারা।

​বসলো শেষ স্ল্যাব, পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল পদ্মা সেতুর সড়কপথ

​বসলো শেষ স্ল্যাব, পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল পদ্মা সেতুর সড়কপথ

 

মুন্সীগঞ্জ: শেষ হলো পদ্মা সেতুর রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ। এর ফলে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুতে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল সড়কপথ।

সোমবার (২৩ আগস্ট) সকালে সেতুর রোডওয়ের শেষ স্ল্যাব বসানো হয় বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের।  

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ আরও একধাপ এগিয়ে গেল। এছাড়া পদ্মা সেতুর মাঝখান দিয়ে গ্যাসলাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে শেষ হতে চলছে রেললাইনের কাজও। আগামী বছরের জুনের আগেই সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা হবে। এ জন্য এ প্রকল্পে কর্মরত সবাই একযোগে দিনরাত কাজ করে চলেছেন। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় এসে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দেন যে, ২০২২ সালের জুন মাসের যেকোনো দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুর শুভ উদ্বোধন করবেন। সেই লক্ষ্যে সেতু প্রকল্পে কর্মরত দেশি-বিদেশি শ্রমিকরা কাজ করে চলছেন। এ পর্যন্ত মূল সেতুর কাজের ৯৪ দশমিক ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে।  

সেতুর মোট ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে সর্বশেষটি সোমবার সকালে বসানো হয়। এর আগে চলতি বছরের ২০ জুন শেষ হয়েছিল দ্বিতল সেতুর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ।

সেতু প্রকল্পের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত সেতু প্রকল্পের সার্বিক কাজ এগিয়েছে ৮৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ মূল সেতুর কাজের আর বাকি মাত্র ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

২০০১ সালে মাওয়া পুরান ফেরিঘাটে মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই সেতুর ফলক উন্মোচন করেন সেসময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সরকার বদল হলে, থেমে যায় কাজ। আবার ২০০৯ সালে তোড়জোড় শুরু হয় কাজের। অনেক চড়াই উতরাই পার করে অবশেষে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসানো হয়। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছিল। একইসঙ্গে চলতে থাকে রোডওয়ে ও রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোসহ অন্যান্য কাজ। আজ রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গরূপে পদ্মা সেতু চোখের সামনে শুভ উদ্বোধনের অপেক্ষায়।  

বাংলাদেশ সময়: ১০২৫ ঘণ্টা, আগস্ট ২৩, ২০২১

শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০

ভারতে ২৪ ঘণ্টায় বজ্রপাতে ১১৬ জন নিহত

ভারতে ২৪ ঘণ্টায় বজ্রপাতে ১১৬ জন নিহত



ভয়াবহ বজ্রপাতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ভারতে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ১১৬ জন। ভারতের দুই রাজ্যে বজ্রপাতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এই বজ্রাঘাতে বিহারে ৯২ জন ও উত্তরপ্রদেশে ২৪ জন নিহত হয়েছে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে দিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য এই দুই রাজ্যের মানুষজনকে ঘরে থাকতে আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বিহার সরকার জানিয়েছে, সেখানে বজ্রাঘাতে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে শুক্রবার (২৬ জুন) সেই সংখ্যা সংশোধন করে বিহার সরকার। শুক্রবার পাটনার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, বজ্রাঘাতে বিহারের বিভিন্ন জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২ জন হয়েছে।


বিহারের অন্তত ২৩টি জেলায় বজ্রাঘাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা গোপালগঞ্জে। সেখানে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় আটজনের মৃত্যু হয়েছে মাধুবনি জেলায়। এছাড়া সিওয়ান, ভাগলপুল, পূর্ব চাম্পারান, দরভাঙা, ভাগলপুর ও বাঙ্কায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে উত্তরপ্রদেশে বৃহস্পতিবারের বজ্রাঘাতে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। লখনৌয় সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। তারা জানিয়েছে, রাজ্যের দেওরিয়ায় ৯ জন, প্রয়াগরাজে ছয়জন, আম্বেদকারনগরে তিনজন ও বড়ববাঙ্কিতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
ভারতীয়রা টয়লেটে যায় না কেন?

ভারতীয়রা টয়লেটে যায় না কেন?



ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজ্য মহারাষ্ট্র সরকার ঘোষণা দিয়েছিলো যে সেই রাজ্যে কাউকে আর খোলা আকাশের নিচে মল-মূত্র ত্যাগ করতে দেয়া হবে না। কারণ গোটা রাজ্যে সবার হাতের নাগালে বানানো হয়েছে শৌচাগার। 

গত কয়েক বছরে ভারতে অনেক রাজ্যই নিজেদের 'ওপেন ডিফেকেশেন ফ্রি' বা ওডিএফ বলে ঘোষণা করেছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বহু জায়গাতেই শৌচাগারে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভারতীয়রা এখনও উন্মুক্ত জায়গায় মল-মূত্র ত্যাগ করতেই বেশি পছন্দ করে।

কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি? কেন শৌচাগার বানানোর পরও মানুষ সেখানে যেতে চাইছেন না?

ভারতে নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর যে 'স্বচ্ছ ভারত অভিযান' শুরু হয়েছিল, তার আওতায় দেশ জুড়ে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক কোটি শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও ভারতীয়দের উন্মুক্ত জায়গায় শৌচ করার অভ্যাস পাল্টানো যায়নি।


কেন তারা শৌচাগারে যাচ্ছেন না, এ প্রশ্নের জবাবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিকে অনেকেই বলেছেন, দেওয়ালে ঘেরা বদ্ধ জায়গায় শৌচ করতে তাদের ভাল লাগে না। গরম লাগে, গ্যাসে-দুর্গন্ধে নাকি বমি-বমি পায়। গ্রামীণ মহিলাদের অনেকের আবার বলেছেন পানির অভাবের কথা।

আরো পড়ুন: ভারতে ২৪ ঘণ্টায় বজ্রপাতে ১১৬ জন নিহত

উত্তরপ্রদেশের এক নারী জানিয়েছিলেন, চাষের ক্ষেতে গেলে এক লোটা পানিতেই কাজ সারা যায়। কিন্তু শৌচাগারে গেলে লাগে পুরো এক বালতি পানি। এলাকায় পানির সমস্যা এতোই বেশি যে শৌচের জন্য এত পানি খরচ করা যায় না। কাজেই ভোরবেলায় কেউ ওঠার আগে আমি নিজের মায়ের সঙ্গে গিয়ে ক্ষেতেই কাজ সেরে আসি।


গ্রামীণ স্যানিটেশন নিয়ে কাজ করেছেন সুস্নাত চৌধুরী। বিবিসিকে তিনি জানিয়েছিলেন, একটা টয়লেট বানানোর পর তার প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ অনেক সময়ই থাকে না আর সেটাই মানুষকে টয়লেট থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গ্রামে গ্রামে ভোররাতে এখন স্বেচ্ছাসেবীরা টহল দিচ্ছেন যাতে খোলা জায়গায় কেউ মল ত্যাগ করতে না পারেন। শৌচাগার থাকা সত্ত্বেও যারা ক্ষেতে যাচ্ছেন তাদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। চেষ্টা করা হচ্ছে কিছুটা লজ্জায় ফেলারও।

বিহারে একজন স্বেচ্ছাসেবী জানিয়েছেন, আমরা যখন তাদের বলি তোমার বউ-মেয়ে লোটা নিয়ে সকালে ক্ষেতে যাচ্ছ, তখন তার শরীরের এমন সব অংশ গোটা গ্রাম দেখতে পায়, যা স্বামী ছাড়া কারুর দেখার কথা নয়। তখন তোমাদের লজ্জা-শরম কোথায় যায়?"

শৌচাগার আন্দোলনে সঙ্গে যুক্ত ভারতের বৃহত্তম এনজিও সুলভ ইন্টারন্যাশনাল অবশ্য মনে করে, ভারতের আবহমান সংস্কৃতি যেহেতু বলে শৌচের কাজ বসতবাড়ি থেকে দূরে হওয়া উচিত - তাই বাড়ির ভেতরে বা লাগোয়া শৌচাগার ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি হতে আরও সময় লাগবে।

সূত্র: বিবিসি 
৫ সমুদ্র বন্দরের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশ

৫ সমুদ্র বন্দরের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশ



স্বাধীনতার আগে থেকেই বাংলাদেশে সমুদ্র বন্দরের সংখ্যা ছিল মাত্র দুইটি। চট্টগ্রাম এবং মংলা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নির্মাণাধীন রয়েছে আরো তিনটি সমুদ্রবন্দর। সময় সংবাদের পাঠকদের জন্য আজ তুলে ধরা হলো বাংলাদেশের বর্তমান ও নির্মাণাধীন সমুদ্রবন্দরগুলোর বিস্তারিত তথ্য। 

১. চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর:

১৮৮৭ সালে চালু হওয়া বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির ৯০% এই বন্দর ব্যবহার করেই হয়ে থাকে। বিশ্বের সব থেকে ব্যস্ততম বন্দরের তালিকাগুলো লয়েডস প্রতি বছর প্রকাশ করে। ২০১৯ সালে এই বন্দরটিকে বিশ্বের ৬৪তম ব্যস্ত বন্দরের স্বীকৃতি দিয়েছে তারা। ৯.৫ মিটার ড্রাফটের ছোট জাহাজ ভিড়তে পারে এই বন্দরে। ১০ হাজার টনের বেশি জাহাজ ভিড়ানোর ক্ষমতা নেই বন্দরটির। এজন্য মাদার ভেসেল এখানে ভিড়তে পারে না। স্বাধীনতার এত বছর পার হলেও কিছু গ্যানট্রি ক্রেন ছাড়া আহামরি কোন উন্নয়ন হয়নি এই বন্দরে। বন্দরটি বর্ধিত টার্মিনাল করবার স্থান ও নেই। তবে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের এক্সটেনশন হিসাবে বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে।


সমুদ্রের মোহনায় জেগে উঠা চরে প্রায় ১২০০ একরের বেশি জমিতে বে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। এতে খরচ হবে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এখানে বন্দর চ্যানেলের গভীরতা এমন হবে যাতে প্রায় ১৩ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারে। ফলে বড় মাদার ভেসেল গুলি ভিড়তে আর অসুবিধা হবে না। ৫০০০ কন্টেইনার বাহী জাহাজ সহজেই ভিড়তে পারবে। সেই সাথে আনলোড করার সময় কমে হবে ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা। গতি আসবে বন্দরের কার্যক্রমে। এখানে মোট তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। ১৫০০ মিটার বা ১.৫ কিমি এর মাল্টিপারপাস টার্মিনাল, ১২২৫ মিটারের কন্টেইনার টার্মিনাল ১, এবং ৮৩০ মিটারের কন্টেইনার টার্মিনাল-২।

২. মংলা সমুদ্র বন্দর:

পাটকেন্দ্রিক গড়ে উঠা শত শত শিল্প প্রতিষ্ঠান ছিল খুলনায়। মংলা ছিল জমজমাট একটি বন্দর। কিন্তু কালক্রমে পাটকলসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবার কারণে মংলা বন্দর তার গুরুত্ব হারিয়েছে। বন্দর চ্যানেলে বেশ কিছু জাহাজ ডুবে যাওয়া এবং গভীরতা কমে যাবার ফলে এখন মংলায় ৭.৫ মিটারে বেশি ড্রাফটের কোন জাহাজ ভিড়তে পারেনা। এক প্রকার অচল বলা চলে এই বন্দর। এই বন্দরের করুণ অবস্থার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। পদ্মার উপর কোন সেতু না থাকায় এই বন্দর এক প্রকার রাজধানী হতে বিচ্ছিন্ন। তবে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে এবং সরাসরি রেল সংযোগ নিয়ে চলমান প্রকল্প শেষ হলে এই বন্দর কিছুটা হলেও তার গুরুত্ব ফিরে পাবে। মংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন করার অংশ হিসাবেই রেল সংযোগ প্রকল্প এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের সব থেকে বড় রেলসেতু রূপসা রেলসেতুর নির্মাণ কাজ অনেক এগিয়েছে। সেই সাথে ভবিষ্যতে এই বন্দর ব্যবহার করবে নেপাল, ভারত। তখন এই বন্দরের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।



৩. পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর:

পটুয়াখালীর পায়রা নদীর মোহনায় রাবনাবাদ চ্যানেলে পায়রা বন্দরের অবস্থান। একটি দ্বীপে বন্দর করবার থেকে মূল ভূখণ্ডের সাথে বন্দর করলে বন্দরকেন্দ্রিক অন্যান্য স্থাপনা করবার সুযোগ অনেক বেশি। সেই হিসাবে পায়রা বন্দর একটি অনন্য পদক্ষেপ। ব্রিটিশ ফার্ম এইচ আর ওয়ালিংটন এন্ড কনসোর্টিয়াম এর মূল্যায়ন অনুসারে বাংলাদেশে ১৪.৫ মিটার ড্রাফটের একটি সমুদ্র বন্দর করা খুব জরুরি। অবস্থান বিবেচনায় সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সমুদ্র উপকূল থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সমুদ্র উপকূলের এই জেলাগুলির অবদান সামান্য বলা চলে। অর্থাৎ সমুদ্রের সম্ভাবনা হিসাবে বাংলাদেশের মোট জিডিপির অর্ধেক অন্তত এই জেলাগুলি থেকে আসার কথা থাকলেও অবকাঠামোগত অপ্রতুলতার জন্য সমুদ্রের সুবিধাকে আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। যেহেতু দক্ষিণাঞ্চলের ঠিক মাঝ বরাবর পায়রা বন্দরের অবস্থান সেক্ষেত্রে বন্দরকে ঘিরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন শক্তি সঞ্চার হবে সেটা সহজেই বোঝা যায়।

পায়রা বন্দরের প্রাথমিক, মধ্যম এবং চূড়ান্ত পর্বে এটি বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ বন্দর হয়ে উঠবে। প্রকল্পটি প্রায় ৭ হাজার একর জমির উপর। পায়রা বন্দরের প্রবেশ চ্যানেলে নদীর প্রশস্ততা প্রায় ৪ কিমি। আর বন্দর থেকে সমুদ্রের দিকে টানা ১১ কিমি দীর্ঘ টার্মিনাল করা হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর টার্মিনালে মাত্র ১৫০০ কন্টেইনার রাখবার মত ব্যবস্থা আছে। পায়রার ক্ষেত্রে টার্মিনালে প্রায় ৭৫০০০ কন্টেইনার রাখা যাবে। ১ লক্ষ বর্গ ফিটের ওয়ারহাউজের কাজ প্রাথমিক ভাবেই শেষ করা হবে। গভীরতার বিচারে পায়রা বন্দরে প্রায় ১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর ব্যবস্থা থাকবে। যেখানে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ ৯.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারে। আর ১২ মিটারের বেশি ড্রাফট থাকলে সেটাকে গভীর সমুদ্র বন্দর বলা যায়।

উল্লেখ্য পাকিস্তানের গোয়াধর বন্দরের গভীরতাও ১৪ মিটার। ড্রেজিং করে সেটাকে ১৮ মিটার করা হবে। পায়রাকেও সেরকম গভীরতায় চাইলেই নেয়া সম্ভব হবে। মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত হবার জন্য এটিকে ঘিরে বিশাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন করা সম্ভব হবে। বন্দরের মোট প্রকল্পকে ১৯ টি ভাগে ভাগ করে কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রায় ১২ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলারের মত বিনিয়োগ হবে। সেই সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন হাব করা হচ্ছে। থাকছে এলএনজি টার্মিনাল।

এই বন্দরের চাহিদার প্রধান গ্রাহক হবে বন্দর ঘিরে গড়ে তোলা বিদ্যুৎ হাব এবং ১০,০০০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেই সাথে জাহাজ নির্মাণের জন্য আলাদা অঞ্চল সৃষ্টি করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু চালু হলে এবং ঢাকা থেকে পায়রা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ শেষ হলে সহজেই স্বল্প সময়ে পণ্য ঢাকাসহ সারাদেশে পৌঁছানো সম্ভব হবে। সরাসরি সড়ক যোগাযোগের জন্য লেবুখালিতে পায়রা নদীর উপর সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে যেটি কয়েক বছরের ভেতরেই ঢাকার সাথে পায়রার সরাসরি সংযোগ ঘটাবে। পিছিয়ে পড়া দক্ষিণাঞ্চলের জিডিপি বৃদ্ধিতে এই বন্দর বড় রকমের ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে পায়রাকে ঘিরে গড়ে উঠা কয়লা ভিত্তিক দেশের সব থেকে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ শেষ হয়েছে।

৪. মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর:

বাংলাদেশের সব থেকে গভীরতম সমুদ্রবন্দর হচ্ছে মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর। মহেশখালী দ্বীপের আয়তন প্রায় ১৪ বর্গকিলোমিটার। সেই সাথে মাতারবাড়ি চ্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪.৫ কিমি। ভাটার সময় গভীরতা থাকে প্রায় ১৪ মিটার। আর জোয়ারের সময় প্রাকৃতিক ভাবেই গভীরতা হয় প্রায় ১৮.৫ মিটার। যদি ড্রেজিং করা হয় তবে গভীরতাকে আরো বাড়ানো সম্ভব।

মাতারবাড়ি এর লোকেশন নির্ধারণ এবং কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ-কেন্দ্র নির্মাণ আর এসবের নিমিত্তে বন্দর করবার কাজ পেয়েছে জাপান। শুরু থেকেই প্রকল্পটি নিয়ে খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়নি। খরচ ছিল ৩৬ হাজার কোটি টাকা যার ভেতর জাপান অর্থায়ন করবে ২৯ হাজার কোটি টাকা। আপাতত প্রায় ৪৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করা হবে। কয়লা নামানোর জন্য বন্দর সুবিধা এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত।

মাতারবাড়ি বন্দরের কাজ শেষ হলে এই দ্বীপে ২৪০০০ একরের বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিশাল বিনিয়োগ আসবে। ইতোমধ্যে চীন সেখানে ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। জাপান তাদের বিশাল বিনিয়োগ এখানে আনছে। এই বন্দরকে কক্সবাজারের সাথে যুক্ত করার জন্য রেল ও সড়ক সংযোগ ঘটানো হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্প কারখানা এবং দেশের সবথেকে বড় বিদ্যুৎ হাবের জন্য কয়লা বহন এই বন্দরের প্রধান কাজ হবে। এছাড়া এলএনজি এবং অন্যান্য কার্গো বহনেও ব্যাবহার হবে এই বন্দর।

৫. মিরসরাই ইকোনমিক জোন সংলগ্ন প্রথম বেসরকারি সমুদ্রবন্দর:

জাপানের জেডিয়াই, সজিত কর্পোরেশন এবং আমাদের দেশের এনার্জিপ্যাক জোটবদ্ধ হয়ে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে উপমহাদেশের সব থেকে বড় ইকোনমিক জোন মিরসরাই সংলগ্ন একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করবে। জাইকা এখানে ২ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করার জন্য রাজি হয়েছে। আইএফসি অর্থায়ন করবে ১০০ মিলিয়ন ডলার।

সারাবিশ্বে মিরসরাই ইকোনমিক জোনের মত এত আকর্ষণীয় ইকোনমিক জোন খুব কম আছে। ইকোনমিক জোন করার প্রকল্প নেয়ার পর এটি এখন কর্মমুখর একটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। ৩০ হাজার একরের উপর উপমহাদেশের সব থেকে বড় ইকোনমিক জোনের সাথেই মিশে আছে সমুদ্র। এই ইকোনমিক জোনের চাহিদা বিবেচনায় আরো ১৩,০০০ একর জমি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি হলে অর্থনৈতিক অঞ্চলের আয়তন হবে ৪৩,০০০ একর। ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ে এখান থেকে মাত্র ১৮ কিমি দূরে। বিমান বন্দর খুব কাছেই। সেই সাথে চট্টগ্রাম বন্দর ও খুব কাছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের উপর এই বিশাল অঞ্চলে গড়ে উঠা শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাপ যেন না পড়ে সে কারণেই সজিত কর্পোরেশন এখানে একটি সমুদ্র বন্দর করবে যেটার কাজ মূলত শুধু এখানে বিনিয়োগ করা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্য আমদানি এবং রপ্তানি করা। এর অর্থ দাঁড়ায় এই ইকোনমিক জোনের নিজস্ব একটি ডেডিকেটেড সমুদ্রবন্দর থাকবে। ৪০০০০ টনের মাদার ভেসেল ভিড়তে পারবে এখানে। যদিও বন্দরের আকার ছোট হবে তবুও এত বিশাল বিশাল জাহাজ ভিড়তে পারার সুবিধাযুক্ত ইকোনমিক জোন বিশ্বের কয়টি দেশে আছে?

একই কাজ কিন্তু মাতারবাড়িতেও হচ্ছে। ২৪০০০ একর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাথেই যুক্ত মাতারবাড়ি বন্দর।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে নতুন করে চেনাতে এই দুটি বন্দর এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সৌজন্য: ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম।
‘দেশে ১৩ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন’

‘দেশে ১৩ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন’



করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসচেতনতা দেখা যাচ্ছে। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। মাস্ক পকেটে নিয়ে ঘুরছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভ্যাকসিন আসার আগেই দেশের ৮০ ভাগ বা প্রায় ১৩ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম।


গেল মঙ্গলবার (২২ জুন) দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ উপাচার্য এসব কথা বলেছেন। শুক্রবার তাঁর সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মানুষ যেভাবে চলাফেরা করছে, তাতে ভ্যাকসিন আসার আগেই হয়তো ৮০ ভাগ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাবে। এখন তো দৈনিক নমুনা পরীক্ষায় ২২-২৩ শতাংশ মানুষের করোনা পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। এর অর্থ হলো পরীক্ষা না হওয়া অনেক সংক্রমিত মানুষ সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিজের অজান্তেই রোগ ছড়াচ্ছে। এ ছাড়া এখন তো অনেক আক্রান্তেরই উপসর্গ প্রকাশ পাচ্ছে না।


স্বাস্থ্যবিধি মানায় মানুষের অসচেতনতা বিষয়টি উল্লেখ করে ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের যত টেস্ট হওয়ার দরকার, সেটা হচ্ছে না। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে পারছি না। দুই মাস আগেও যত মানুষ মাস্ক পরে বের হতেন, এখন সেটাও দেখছি না। অনেকে মাস্ক নিয়ে ঘুরলেও তা থুঁতনিতে লাগিয়ে রাখছেন। এ নিয়ে বলতে গেলে উল্টো প্রশ্ন করছেন।

স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি আউনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। কিছু এলাকায় লকডাউন দেওয়া হয়েছে, বেশিরভাগ এলাকাতেই নেই। লকডাউনের উদ্দেশ্য মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা, মাস্ক পরাসহ সব স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা।

এদিকে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের যে তথ্য জানানো হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৯৪৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ২৬ হাজার ৬০৬ জনে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩৯ জন। এর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৬২১ জনে।


এর আগে বুধবার জানানো হয়েছিল, ২৪ ঘণ্টায় মারা যায় ৩৭ জন ও শনাক্ত হয় ৩ হাজার ৪৬২ জন। বৃহস্পতিবার মৃত্যু বেড়েছে ২ জন ও শনাক্ত বেড়েছে ৫৫৪ জন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বাংলাদেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড আছে ৫৩ জনের। সে তথ্য জানানো হয় ১৬ জুনের বুলেটিনে। আর সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড আছে ৪ হাজার ৮ জনের। এ তথ্য জানানো হয় ১৭ জুনের বুলেটিনে।

বুলেটিনে বরাবরের মতো করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক পরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান ডা. নাসিমা।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়িয়ে এ ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়। ছুটি শেষে করোনার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ৩১ মে থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। তবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সাহারা খাতুনের অবস্থার অবনতি

সাহারা খাতুনের অবস্থার অবনতি



সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য সাহারা খাতুনের ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। সাহারা খাতুনের ব্যক্তিগত সহকারী মুজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সাহারা খাতুনকে ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সাহারা খাতুনের করোনা টেস্টে নেগেটিভ এসেছে বলেও জানান তিনি। বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি।

তিনি জানান, এর আগে সাহারা খাতুনের অবস্থার উন্নতি হলে গত ২২ জুন দুপুরে তাকে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। উনার হার্টবিট পাওয়া যাচ্ছিল না। পাঞ্চ করে হার্টবিট ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর বেলা ১১টার দিকে তাকে এইচডিইউ থেকে আবারও আইসিইউতে নেয়া হয়েছে।’

এর আগে, জ্বর, অ্যালার্জিসহ শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ২ জুন দিবাগত রাতে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।


তখন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানিয়েছিলেন, বর্তমানে সাহারা খাতুনের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার খোঁজখবর নিয়েছেন। তাকে আরও কয়েক দিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। দলের ত্যাগী প্রবীণ এ নেতার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।